২০২৯ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে ইরান যুদ্ধ, ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন উপদেষ্টারা
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্তও গড়াতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা তাকে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কয়েকজন উপদেষ্টা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বুধবার মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ওভাল অফিস ও সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত একাধিক ব্যক্তিগত বৈঠকে ট্রাম্পকে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
২০২৯ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে ইরান যুদ্ধ, ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন উপদেষ্টারা….
তাদের আশঙ্কা, তেহরান যদি মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে, তাহলে বর্তমান সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার বদলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেতে পারে যে, ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়ও যুদ্ধ চলমান থাকবে।
২০২৯ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে ইরান যুদ্ধ, ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন উপদেষ্টারা….
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্স হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের আশাবাদ বনাম উপদেষ্টাদের সতর্কতা
উপদেষ্টাদের এই অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ট্রাম্পের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য বক্তব্যের সঙ্গে বেশ ভিন্ন।
বুধবার ট্রাম্প বলেছেন, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ‘পরপরই’ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হয়ে যেতে পারে। তার দাবি, ইরান মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে এবং সে লক্ষ্যেই প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে চাইছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের পক্ষে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করে যাওয়া কঠিন হবে। তাই তিনি দ্রুত সংঘাতের অবসান নিয়ে প্রকাশ্যে আশাবাদ দেখাচ্ছেন।
২০২৯ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে ইরান যুদ্ধ, ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন উপদেষ্টারা….
তবে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সতর্ক। তাদের মতে, ইরান যদি দীর্ঘ সময় প্রতিরোধ চালিয়ে যায়, তাহলে সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার পরিবর্তে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে পরিণত হতে পারে।
আলোচনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করেননি ট্রাম্প। বুধবার তিনি স্বীকার করেছেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এখনও সম্ভব।
তবে সামরিক চাপের তুলনায় কূটনীতিকে তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন—এমন কোনো ইঙ্গিত তার বক্তব্যে পাওয়া যায়নি। বরং সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আলোচনার সম্ভাবনাও খোলা রাখছেন তিনি।
২০২৯ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে ইরান যুদ্ধ, ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন উপদেষ্টারা….
এ পরিস্থিতিতে ইরানকে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে দ্রুত সমঝোতায় আনা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
দীর্ঘ যুদ্ধের ঝুঁকি
উপদেষ্টাদের সতর্কবার্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সংঘাতের সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি। ইরান যদি মার্কিন চাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে যুদ্ধ কয়েক মাস বা এক-দুই বছরের মধ্যে শেষ নাও হতে পারে।
২০২৯ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে ইরান যুদ্ধ, ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন উপদেষ্টারা…
এমনকি সংঘাত ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গড়ালে ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় নতুন প্রেসিডেন্টের কাছে একটি চলমান যুদ্ধ রেখে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ও সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর হামলার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২০২৯ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে ইরান যুদ্ধ, ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন উপদেষ্টারা…
এর প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের বাজারেও। দীর্ঘ সংঘাত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথগুলোর ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে ট্রাম্পের অভিযোগ
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্পের অভিযোগ, ইরান মার্কিন ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে এবং নির্বাচন পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার কৌশল নিয়েছে। তবে তার বিশ্বাস, ইরানের পক্ষে এত দীর্ঘ সময় মার্কিন চাপ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না।
তাই নির্বাচনের পরপরই সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য আশাবাদের সঙ্গে তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের পার্থক্য ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে থাকা অনিশ্চয়তাকেই সামনে আনছে। সংঘাত শেষ পর্যন্ত দ্রুত সমঝোতায় থামবে, নাকি ২০২৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হবে—তা অনেকটাই নির্ভর করছে ইরানের প্রতিরোধের সক্ষমতা এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার ওপর।
