বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা রাখাইনে জান্তার বিমান হামলা, নিহত ৫০
আহত ৫৮; নারী ও শিশুও নিহত হওয়ার দাবি, রোহিঙ্গাদের ফেরার পরিবেশ নেই বলছে জাতিসংঘ
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি একটি এলাকায় সামরিক জান্তার বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। হামলায় আরও ৫৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা রাখাইনে জান্তার বিমান হামলা, নিহত ৫০…..
সোমবার রাখাইনের কায়ুকতো এলাকায় হামলাটি চালানো হয়। স্থানীয় সূত্র ও রাখাইনভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল একটি জনবহুল বাজার এলাকা। এতে আশপাশের ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইং থুকা অভিযোগ করেছেন, মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী পরিকল্পিতভাবে বাজার, স্কুল, আবাসিক এলাকা ও সাধারণ মানুষের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা রাখাইনে জান্তার বিমান হামলা, নিহত ৫০….
স্থানীয় দাতব্যকর্মী ওয়েই হান ওংও নিহত ও আহতের একই সংখ্যা জানিয়েছেন। তাঁর প্রকাশিত একটি ছবিতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নারী ও শিশুদের মরদেহ উদ্ধারের দৃশ্য দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের উদ্বেগ
হামলার পর রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক বলেন, রাখাইনের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে স্পষ্ট যে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।
বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা রাখাইনে জান্তার বিমান হামলা, নিহত ৫০….
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পক্ষ থেকে তিনি বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং চলমান সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করার ওপর জোর দেন গুতেরেস।
দীর্ঘ সংঘাতের মধ্যে নতুন হামলা
২০২১ সালে অং সান সু চির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাষ্ট্রক্ষমতা নেওয়ার পর দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শুরু হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে লড়াই চলছে।
রাখাইন রাজ্যও এই সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র লড়াই হয়েছে। এর ফলে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও বাস্তুচ্যুতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি রাখাইনে নতুন করে এই বিমান হামলার ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
