দীর্ঘদিন পর আলোচনার কেন্দ্রে এলেন দেশের প্রখ্যাত অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা। অভিনয় থেকে এক দশকের বেশি সময় দূরে থাকলেও তাঁর প্রতি দর্শকের ভালোবাসা এতটুকু কমেনি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে একুশে পদক গ্রহণ করেন তিনি।
সরকার চলতি মাসের শুরুতে একুশে পদকপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করে। সেই তালিকায় ছিলেন এই গুণী শিল্পীও। পুরস্কার গ্রহণের পর ক্ষণিকের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয় তাঁর। ববিতা জানান, প্রধানমন্ত্রী কুশল জানতে চাইলে তিনি ভালো থাকার কথা বলেন এবং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, তাঁর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে। পাশাপাশি স্মরণ করেন অতীতের সেই মুহূর্ত, যখন প্রধানমন্ত্রীর বাবার হাত থেকেও তিনি সম্মাননা গ্রহণ করেছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসায় সিক্ত হন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘদিন পর জনসমাগমে এসে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে ছবি তুলতে তুলতে কিছুটা ক্লান্ত হলেও তাঁর কণ্ঠে ছিল আনন্দের সুর। হাসিমুখে তিনি বলেন, অনেক দিন পর সবার সঙ্গে এমন আন্তরিক মুহূর্ত ভাগ করে নিতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে।
নিজের অর্জিত একুশে পদক তিনি উৎসর্গ করেছেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান–কে। আবেগঘন কণ্ঠে ববিতা বলেন, মাত্র ১৩ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে তাঁর পথচলা শুরু। সেই যাত্রার পথপ্রদর্শক ছিলেন জহির রায়হান। অর্থ বা খ্যাতির চেয়ে কাজের প্রতি নিষ্ঠা আর শিল্পের প্রতি ভালোবাসাই ছিল তখন প্রধান শক্তি। সেই সাধনা আর দর্শকের নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই তাঁকে আজকের ববিতা বানিয়েছে।
শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতায় ভরা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘জহির রায়হান সাহেব আমাকে চলচ্চিত্রে নিয়ে না এলে হয়তো এত দূর আসা হতো না। তাই আমার এই একুশে পদক তাঁর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য।’
