প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের অর্থনীতি ভয়াবহ চাপের মুখে পড়েছিল। ফলে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের ভার নিয়েই বর্তমান সরকারকে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে।
রবিবার (৩ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার যখন দায়িত্ব নেয় তখন দেশের অর্থনীতি ছিল অত্যন্ত নাজুক অবস্থায়। শুধু অর্থনীতিই নয়, জনপ্রশাসন ছিল দুর্বল ও বিভাজিত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ছিল অবনতিশীল। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও ছিল গভীর সংকট।
তিনি আরও বলেন, দেশকে অতিরিক্ত আমদানিনির্ভর করে তোলা হয়েছিল, যার ফলে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বেড়েছে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। এর সঙ্গে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবও নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে জনগণের দুর্ভোগ কমিয়ে কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রমাণ করেছে— জনপ্রশাসন নিরপেক্ষ ও দক্ষভাবে কাজ করলে জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হয়। তিনি জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, প্রতিটি পদই গুরুত্বপূর্ণ এবং যে কোনো দায়িত্ব পালনে নিজেদের প্রস্তুত রাখতে হবে।
সরকারপ্রধান আরও জানান, জনপ্রশাসনের শূন্য পদগুলো দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পূরণ করা হবে। পাশাপাশি দল-মত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বিভিন্ন খাত চিহ্নিত করে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহার ও ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিত্যপণ্যের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, সিন্ডিকেট এবং কৃত্রিম সংকট রোধে বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম নিয়মিত ও দৃশ্যমান করার জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
