ফিফার প্রচলিত প্রথা ভেঙে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেবেন ট্রাম্প
বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ট্রফি বিতরণ সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্ত। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, আগামী ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে বিজয়ী দলের অধিনায়কের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি যৌথভাবে তুলে দেবেন তিনি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ফিফার দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী বিশ্বকাপজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট। ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপ এবং ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন ইনফান্তিনো নিজেই। তবে এবার সেই প্রথা থেকে সরে আসছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা রয়েছে। এবারের বিশ্বকাপ আয়োজন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে সম্পৃক্ত রাখা হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
ফিফার প্রচলিত প্রথা ভেঙে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেবেন ট্রাম্প……….
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন, “আমরা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফাইনাল উপভোগ করব এবং বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেব। অবশ্যই আমরা একসঙ্গেই থাকব, কারণ আমরা সবসময় একসঙ্গে কাজ করি।”
তবে এই ঘোষণার পরপরই ফুটবল অঙ্গনে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিশেষ করে সম্প্রতি নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালের একটি ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সেই ম্যাচে প্যারিস সেন্ট জার্মেইকে হারিয়ে শিরোপা জেতে চেলসি। ম্যাচ শেষে দলের অধিনায়ক রিস জেমসের হাতে ট্রফি তুলে দেন ট্রাম্প। কিন্তু ট্রফি গ্রহণের পর খেলোয়াড়রা যখন উদযাপন শুরু করেন, তখনও ট্রাম্প মঞ্চে অবস্থান করায় কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
যদিও বিশ্বকাপ ট্রফি প্রদানের ক্ষেত্রে অতীতেও কিছু ব্যতিক্রম দেখা গেছে। ১৯৮২ সালে ইতালির অধিনায়ক দিনো জোফের হাতে ট্রফি তুলে দিয়েছিলেন স্পেনের রাজা হুয়ান কার্লোস। আর ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ববি মুরের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি প্রদান করেছিলেন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ।
তবে আধুনিক বিশ্বকাপের ইতিহাসে রাজনৈতিক কোনো নেতার সরাসরি ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠান অংশগ্রহণ বিরল ঘটনা। ফলে ট্রাম্পের এই ভূমিকা ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
