Uncategorized

জনসমর্থন থাকলে দেশ পুনর্গঠনে কোনো বাধাই মানবে না বিএনপি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার একমাত্র উৎস জনগণ। জনগণের সমর্থন ও আস্থা যতদিন থাকবে, ততদিন দেশ পুনর্গঠনের পথে কোনো বাধাকেই বিএনপি আমলে নেবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই একটি উন্নত, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সোমবার বরিশালের গৌরনদী ও নগরীর পৃথক দুটি স্থানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

জনসমর্থন থাকলে দেশ পুনর্গঠনে কোনো বাধাই মানবে না বিএনপি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান…………

পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের আহ্বান

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকালে সড়কপথে গৌরনদীর বাটাজোরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে শরিকল খালের তীরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আজ যে গাছটি লাগানো হচ্ছে, তার যথাযথ পরিচর্যা করলে একদিন এই গাছই আপনাদের উপকারে আসবে।”

তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। “বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশব্যাপী সবুজায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। এ উপলক্ষে শরিকল খালের দুই তীরে একযোগে প্রায় আড়াই হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়।

ফ্যামিলি কার্ড আরও বিস্তৃত করার ঘোষণা

পরে স্থানীয় অশ্বিনী কুমার মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে গৌরনদীর ৬১৩ জন উপকারভোগীর পাশাপাশি বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী কয়েকজন নারীকে তাদের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে পারুল আখতার নামের এক উপকারভোগী জানান, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার ফলে তার পরিবারের অনেক উপকার হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা করেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখনও অনেক পরিবার এই সুবিধার বাইরে রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সব যোগ্য পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।

সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে বাংলাদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষের সমান মর্যাদা নিশ্চিত করে মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে দেশকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার।

তিনি বলেন, “আমরা শুধু ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ নয়, এখন বলতে চাই—’করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।” আগামী দিনে দেশের প্রতিটি মানুষ যাতে আরও ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারে, সেটিই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নগরীতেও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

গৌরনদীর কর্মসূচি শেষে বরিশাল নগরীর উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। পথে প্রায় ৪০ কিলোমিটারজুড়ে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানান।

পথিমধ্যে বাবুগঞ্জের মাধবপাশায় সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করেন তিনি। পরে বরিশাল ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন শিশু নিকেতন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের ভিড় দেখে গাড়ি থামিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং স্মৃতিচারণমূলক ছবি তোলেন।

দুপুরে বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন এলাকার সাগরদি খালের তীরে আরেকটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় খালের দুই পাড়ে আরও সাড়ে তিনশ গাছ লাগানো হয়।

সেখানে বক্তব্যে তিনি বলেন, স্বাধীনতার চেতনা, ঐক্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। সম্প্রতি গণআন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার বিদায়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনেরও আহ্বান জানান তিনি।

সাংগঠনিক সভায় নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা

বিকেলে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

পথে পথে জনতার উচ্ছ্বাস

প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল সফর ঘিরে সকাল থেকেই ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান। গাড়িবহর অতিক্রম করার সময় প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *