নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি জুলাইয়ের চেতনার ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনোভাবেই ব্যর্থ হয়নি। যারা এ আন্দোলনকে ব্যর্থ বলে দাবি করেন, তারা মূলত গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে অস্বীকার করার চেষ্টা করছেন। তাঁর ভাষায়, নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি গড়ে উঠতে হবে জুলাইয়ের চেতনা—গণতন্ত্র, বৈষম্যহীনতা এবং স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের আদর্শ—কে ভিত্তি করে।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে জাতীয় ছাত্রশক্তি আয়োজিত ‘স্মরণগাথায় জুলাই: বিপ্লবের দিনগুলি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে।
নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি জুলাইয়ের চেতনার ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত: নাহিদ ইসলাম………..
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তাই গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য ধরে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি স্মরণ করেন, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা আন্দোলনের একটি বড় মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ওই ঘটনার পর সারা দেশের মানুষ আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে। পরবর্তীতে আবু সাঈদের শাহাদাত, কফিন মিছিল এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাইয়ের রাজনীতি করতেই হবে। নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি হচ্ছে জুলাইয়ের রাজনীতি।” তাঁর মতে, এই রাজনীতি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে কথা বলে।
অনুষ্ঠানে তিনি অভিযোগ করেন, ১৪ ও ১৫ জুলাইকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি না থাকা দুঃখজনক। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত হলেও অন্য কর্মসূচিতে এমন সমস্যা সৃষ্টি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের সংকটকে সামনে আনে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই-পরবর্তী বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের নাগরিক ও একাডেমিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা, নিয়মিত ছাত্রসংসদ নির্বাচন আয়োজন এবং উপাচার্য নিয়োগে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
১৫ জুলাইয়ের হামলার ঘটনায় জড়িতদের তালিকা প্রকাশ করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে হামলায় মদদ দেওয়া বা তা বৈধতা দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিচার ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার এখনও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মৌলিক সংস্কার-সংক্রান্ত দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। তাঁর অভিযোগ, গুম, পুলিশ ও বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত সংস্কার অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে এবং নতুন সংবিধান প্রণয়নের পরিবর্তে কেবল সংশোধনের পথে এগোনো হয়েছে।
শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের আপিলের সময়সীমা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। দেশে ফিরে এলে তাঁকে বিমানবন্দর থেকেই গ্রেপ্তার করে আদালতের রায় কার্যকর করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনা সভায় এনসিপির অন্যান্য নেতারাও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক তাৎপর্য, বিচারপ্রক্রিয়া, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
