আগস্টেই হতে পারে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মির্জা ফখরুল
আগামী আগস্ট মাসের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহেই দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সূত্রগুলো জানায়, জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের জন্য অপেক্ষা না করেই সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনের বিধান অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার ইতিবাচকভাবে ভাবছে। এদিকে বিএনপির অভ্যন্তরেও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আগস্টেই হতে পারে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মির্জা ফখরুল………….
দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র বলছে, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন, রাজনৈতিক সংকটের সময় দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ভাবমূর্তি এবং দলীয় গণ্ডির বাইরেও গ্রহণযোগ্যতা—এসব কারণেই সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
গত শনিবার বগুড়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় নাকি নির্দলীয় কাউকে প্রার্থী করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংবিধান ও আইন অনুযায়ী বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম—জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
এর আগে ধারণা করা হয়েছিল, সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে আইন বিশেষজ্ঞ ও সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য বিশেষ সংসদ অধিবেশন আহ্বানের প্রয়োজন নেই। সংসদ অধিবেশন না থাকলেও আইনগত প্রক্রিয়ায় পৃথকভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানও সম্প্রতি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন হবে না। সংসদের পরবর্তী অধিবেশন সাংবিধানিক সময়সীমার মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা যাবে।
জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতামত গুরুত্বপূর্ণ বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে, তবুও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকের মাধ্যমেই গ্রহণ করা হবে।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলসহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রকাশ্যে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে মত দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে সরকার ও বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। সে ক্ষেত্রে তাঁকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়তে হবে। পাশাপাশি বিএনপির মহাসচিব পদেও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য হবে এবং সেখানে উপনির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা পাওয়ার পরই তফসিল ঘোষণা করা হবে। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রকাশ্য ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। আর একমাত্র বৈধ প্রার্থী থাকলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এখন সবার দৃষ্টি বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক এবং নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার দিকে।
