Uncategorized

নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে, শিগগিরই মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব: অর্থমন্ত্রী

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় বেতনকাঠামো (পে স্কেল) বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সংশ্লিষ্ট কমিটির কাজ শেষ হলেই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন মিললেই দ্রুত সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে, শিগগিরই মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব: অর্থমন্ত্রী…………

বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী জানান, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কাজ নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে। এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

আইএমএফ ঋণের সঙ্গে পে স্কেলের কোনো সম্পর্ক নেই

নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ঋণ কর্মসূচিতে কোনো প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির সঙ্গে নতুন বেতনকাঠামোর কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, “পে স্কেলের কাজ এগিয়ে চলছে। এটি বাস্তবায়ন হবে এবং প্রজ্ঞাপন জারি করতেও বেশি সময় লাগবে না।”

বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে ভিন্নধর্মী সংবাদ প্রকাশের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বারবার মন্তব্য করতে তিনি আগ্রহী নন। যথাসময়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবেই বিস্তারিত জানাবে।

সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি নতুন বেতনকাঠামোর সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত করেছে।

এই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অর্থায়ন নিয়ে আইএমএফের পরামর্শ

সম্প্রতি আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে আলোচনা হলেও, অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইএমএফ সরাসরি নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে কোনো আপত্তি জানায়নি। তবে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

বেতন বৃদ্ধির বড় প্রস্তাব

এর আগে গত বছরের ২৭ জুলাই গঠিত ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

কমিশনের সুপারিশে বর্তমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে বর্তমান ব্যয়ের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এ কারণে বাস্তবায়ন ধাপে ধাপে করার সুপারিশ করেছে নাসিমুল গনি নেতৃত্বাধীন কমিটি।

সর্বশেষ প্রস্তাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হবে এবং পরবর্তী অর্থবছরে বিভিন্ন ভাতা চালু করা হবে—এ বিষয়ে কমিটির সদস্যরা নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন।

বাজেটেও ছিল ঘোষণা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, প্রায় ১১ বছর পর সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

এ লক্ষ্যে বাজেটে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রশাসন খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দও সংযোজন করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের জন্য ব্যয় করা হবে বলে অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের সর্বশেষ অবস্থান থেকে স্পষ্ট যে, প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন সংশ্লিষ্ট কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই সরকারি কর্মচারীদের বহু প্রতীক্ষিত নতুন বেতনকাঠামো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার পথ উন্মুক্ত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *