রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ইসির সাংবিধানিক দায়িত্ব, প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাংবিধানিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পরই দল রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত ক্ষমতা বিএনপির চেয়ারম্যানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ইসির সাংবিধানিক দায়িত্ব, প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান………
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এটি ছিল দলের নিয়মিত বৈঠক। এতে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করার পর মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। যদি একমাত্র বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। তবে একাধিক প্রার্থী হলে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হবে এবং স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর পূর্ববর্তী ঘোষণার আলোকে চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। সে লক্ষ্য সামনে রেখে বিএনপি প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে।
এর আগে তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং দলের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
