Uncategorized

আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না’—ইরানের সঙ্গে নতুন আলোচনার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে চান না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তার লক্ষ্য যুদ্ধ নয়; বরং পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, সেটিই তিনি পর্যবেক্ষণ করতে চান।

এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি মিত্র দেশ তাকে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের বিশ্বাস, সম্ভাব্য একটি সমঝোতার মৌলিক কাঠামো বা সীমারেখা নিয়ে ইতোমধ্যেই অগ্রগতি হয়েছে।

আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না’—ইরানের সঙ্গে নতুন আলোচনার ইঙ্গিত ট্রাম্পের…………

তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান। অতীতেও তিনি আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সংঘাতের অবসানের আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, যদিও পরে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, চুক্তি কবে হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সময়সীমা বেঁধে দিতে চান না।

তার ভাষায়, “দেখা যাক কী হয়। আমরা যখন প্রয়োজন মনে করব, তখনই পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।”

ট্রাম্প আরও জানান, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের নেতারাও সপ্তাহান্তে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। তার দাবি, এসব দেশ মনে করছে হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি—উভয় ইস্যুতেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ রয়েছে।

তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব

ট্রাম্পের বক্তব্যের পর সোমবার এশিয়ার লেনদেনে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে যায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৯৮ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত (WTI) তেলের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৭৪ ডলারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর অন্যতম কারণ, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান ইরানের

এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্য নাকচ করে দিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা মেহর। সংস্থাটি দাবি করেছে, সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখতে তেহরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কোনো অনুরোধ জানায়নি। ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা “আরেকটি নতুন মিথ্যা” বলে অভিহিত করেছে।

এর আগে রোববার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত চলমান আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। তবে সোমবার সম্ভাব্য বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হবে বা এতে কারা অংশ নেবেন—এ বিষয়ে ট্রাম্প কোনো তথ্য দেননি।

সামরিক অভিযান নিয়ে মন্তব্য

এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প আরও বলেন, পরিকল্পিত সামরিক অভিযান বাস্তবায়িত হলে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি হতে পারত। তার মতে, এমন পদক্ষেপ কয়েক মাস ধরে চলা কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিতে পারত।

তবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিনি। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আওতায় যুদ্ধাপরাধের প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে।

অন্যদিকে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেছেন, প্রতিপক্ষের প্রতিটি হুমকিকেই তেহরান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে, তা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হলেও।

তার বক্তব্য, “আমরা কখনোই অপ্রস্তুত থাকব না, আবার নিষ্ক্রিয়ও থাকব না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *