Uncategorized

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর….

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে আসা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক এবং সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর….

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সঞ্চালনায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করা হয়। পরে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করান।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর…

শপথে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবিধান ও আইনের প্রতি আনুগত্যের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার করেন। শপথ শেষে তিনি শপথনামায় স্বাক্ষর করেন এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার তা সত্যায়ন করেন।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর…

এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একাধিক প্রার্থী থাকায় ৩৫ বছর পর এবার রাষ্ট্রপতি পদে সরাসরি নির্বাচন হয়। সংসদের ৩৪৯ সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর….

নির্বাচনে জয় পাওয়ার পরদিনই রাষ্ট্রপতির শপথ নিলেন ৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুল। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই সঙ্গে ২০১৬ সাল থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি। এর আগে পাঁচ বছর দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছিলেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলার কালীবাড়ি এলাকায়। ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে তিনি ঢাকা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর..

ছাত্রজীবনে তিনি বামপন্থী ছাত্রসংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর…..

মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তিনি সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন এবং পরে ভারতে আশ্রয় নেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন।

রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার লক্ষ্যে ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে দেন মির্জা ফখরুল। দুই বছর পর ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধীরে ধীরে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে উঠে আসেন।

২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর…

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বগুড়ার একটি আসন থেকে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর এবার দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *