রাজনীতি

‘না পারলে বলুন, আমরা পারছি না’—সরকারকে গোলাম পরওয়ার

১১ দলের ঐক্যের ঘোষিত লংমার্চ নিয়ে সরকারের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, সরকার যদি সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে না পারে, তাহলে তা স্পষ্টভাবে জনগণকে জানানো উচিত।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

‘না পারলে বলুন, আমরা পারছি না’—সরকারকে গোলাম পরওয়ার…….

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ওনারা বলেন, কেবল ছয় মাস হলো, লংমার্চের দরকারটা কী? দেশবাসী প্রশ্ন করে, সাত দফার ব্যাপারে আমাদের যে বক্তব্য, এই ব্যর্থতার জন্য আপনাদের দরকারটা কী?’

সরকারের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘না পারলে আপনি বলেন যে আমরা পারছি না, আমাদের মাফ করে দেন। তা-ও তো উনারা বলেন না। একের পর এক কমার পরিবর্তে শুধু বাড়ছে। এ জন্য এই লংমার্চ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যুক্তিসংগত।’

৩১ অক্টোবর লংমার্চ

আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চ করবে ১১ দলের ঐক্য। এ কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়ে সোমবার ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের কর্মসূচির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়ার নিন্দা জানিয়ে তাঁর অবিলম্বে মুক্তি দাবি করা হয়।

কুষ্টিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িতে হামলার ঘটনাও সভায় নিন্দা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান নেতারা।

এ ছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হামলার ঘটনায়ও নিন্দা জানানো হয়। দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ১১ দলের নেতারা।

যেভাবে হবে লংমার্চ

গোলাম পরওয়ার জানান, ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় ঢাকার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শুরু হবে। এরপর পদ্মা সেতু ও মাওয়া সড়ক হয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, ফকিরহাট ও খুলনা হয়ে রূপসা ব্রিজ পার হয়ে যশোর ও ঝিনাইদহের পথ ধরে কুষ্টিয়ায় যাবে লংমার্চ।

কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হবে সমাপনী সমাবেশ।

পথে কয়েকটি স্থানে পথসভাও অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে পদ্মা সেতু পার হওয়ার পর সকাল আনুমানিক ৯টায় শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা, বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাঁটাখালী চার রাস্তার মোড়, খুলনা মহানগরীর শিববাড়ি মোড় ও ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের চাঁচড়া মোড় এবং ঝিনাইদহের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে পথসভা করার কথা রয়েছে।

লংমার্চে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অটোরিকশা চালকদের দাবি মেনে নেওয়া সরকারের উচিত।

সভায় এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলামী পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হকসহ ১১ দলের সংশ্লিষ্ট নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।