লিবিয়া হয়ে ইউরোপ: মানব পাচারে ১১৯ জনকে চিহ্নিত করেছে সিআইডি
ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের লিবিয়ায় নিয়ে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় বড় একটি তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দেশের অন্তত ১৫ জেলায় ১১৯ জনের বেশি মানব পাচারকারীকে চিহ্নিত করেছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনের বরাতে কালের কণ্ঠ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এ খবর প্রকাশ করেছে।
সিআইডির তদন্তে কী উঠে এসেছে
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিহ্নিত পাচারকারীরা অন্তত ১৮টি চক্রের সঙ্গে যুক্ত। এদের মধ্যে শুধু মাদারীপুর ও কিশোরগঞ্জেরই ৪৪ জন। এই ১১৯ জনের সবাই গ্রেপ্তার হননি। অনেকে বিদেশে পলাতক। লিবিয়া ও ইউরোপে সক্রিয় থাকার প্রমাণ থাকলেও পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় অন্তত ৪৮ জনকে মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নাম-ঠিকানা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়ার সুযোগ আছে।
চক্র যেভাবে কাজ করে
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের বিভিন্ন জেলার ছোট ছোট দল লিবিয়াভিত্তিক চক্রের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে। বাংলাদেশে থাকা সদস্যরা যাত্রী সংগ্রহ, টাকা আদায় ও বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। লিবিয়ায় থাকা সদস্যরা তাঁদের গ্রহণ করে পরের গন্তব্যে পাঠানো, আটকে রাখা বা মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয় এবং টাকা না দিলে নির্যাতন চলে। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়েও অনেকের মৃত্যু হয়েছে।
একটি চক্রের বিরুদ্ধে গত ১৩ এপ্রিল ৩৪ জনের নামে মামলা হয়েছে। এই চক্রের সদস্যরা দেশের ১১ জেলায় ছড়িয়ে আছেন। চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে ৩৭৬ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের তথ্যও তদন্তে মিলেছে।
আগের ঘটনা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিবিয়ায় বাংলাদেশি মানব পাচার চক্রের ভয়াবহতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে ২০২০ সালের ২৮ মে। সেদিন মিজদাহ শহরে জিম্মি করে রাখা ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ঢাকাসহ বিভিন্ন থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে ২৫টি মামলা হয়। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের একজন কর্মকর্তা জানান, ২০১৮ সালের পর লিবিয়ার জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হয়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ দেশে ফিরেছেন।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, তালিকা তৈরির কাজ এখনও চলছে। কাজ শেষ হলে কতজন দালাল ও লিবিয়ায় কতজন পাচারকারী আছে, তা আরও স্পষ্ট হবে।
বিদেশে যেতে চাইলে যা মনে রাখবেন
বিদেশে চাকরির কথা বলে কেউ অবৈধ পথে পাঠানোর প্রস্তাব দিলে রাজি হবেন না। নিবন্ধিত রিক্রুটিং এজেন্সি ও সরকারি মাধ্যম ছাড়া কারও হাতে টাকা দেবেন না। চুক্তি, ভিসা ও কাজের শর্ত লিখিতভাবে যাচাই করে নিন। কোনো সন্দেহ হলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
এই প্রতিবেদনে ব্যক্তিদের নাম আমরা ইচ্ছে করেই উল্লেখ করিনি। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি দোষী নন। নতুন তথ্য পেলে এই খবর হালনাগাদ করা হবে।
আরও পড়ুন: রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথির মিসাইল হামলা: নিহত অন্তত ১২, ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট স্থগিত
ছবি: Zaki, Unsplash (প্রতীকী ছবি)। তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন (কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনের বরাতে)।
