তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের পর আগ্রহ দেখাল নেদারল্যান্ডস, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের পর এবার নেদারল্যান্ডসও আগ্রহ দেখিয়েছে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞ সহায়তা ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়ে ডাচ সরকারের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনের বরাতে কালের কণ্ঠ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এ খবর প্রকাশ করেছে।
বৈঠকে কী হলো
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী সিওয়ার্ড সিওয়ার্ডসমার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন বৈঠকের তথ্য জানান।
বৈঠকে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস দুটি দেশই বদ্বীপ অঞ্চল। তাই অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে একসঙ্গে কাজ করার বড় সুযোগ আছে। বিশেষ করে ভূমি পুনরুদ্ধারে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতায় তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন।
ডাচ মন্ত্রী পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ভূমি পুনরুদ্ধার, উন্নয়ন এবং জলবায়ু-সহনশীল নদী ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, বিনিয়োগ ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার জন্য এখনকার সময়টি উপযুক্ত। আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও সহযোগিতা বাড়ানোর কথা তিনি বলেন।
তিস্তা প্রকল্প ও চীনের ভূমিকা
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) চীনের সম্পৃক্ততা ভারত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের কাছে প্রকল্পটির অবস্থান। গত জুনে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনায় সহযোগিতার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করা হয়। চীন সামর্থ্যের মধ্যে বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এগিয়ে নিতে বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেবে বলে বিবৃতিতে বলা হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে চীনের সম্পৃক্ততা ভারতের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে নয়। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য দেশের ভেতরে নদী পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন। চীনের পাশাপাশি অন্য দেশের সঙ্গেও এ নিয়ে আলোচনা করছে বাংলাদেশ। ঢাকার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বন্যা এবং শুষ্ক মৌসুমের পানিসংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
এখনও যা স্পষ্ট নয়
নেদারল্যান্ডস সমীক্ষা বা কারিগরি সহায়তায় কী ধরনের ভূমিকা নেবে, কবে নেবে বা কত অর্থে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। এখন পর্যন্ত এটি আগ্রহ প্রকাশ ও স্বাগত জানানোর পর্যায়ে আছে, কোনো চূড়ান্ত চুক্তি নয়। নতুন তথ্য পেলে এই খবর হালনাগাদ করা হবে।
আরও পড়ুন: আমিরাতে বাংলাদেশি চালকের কাজের সুযোগ নিয়ে আলোচনা, রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মাহ্দী আমিনের বৈঠক
ছবি: Maximilian Brand, Unsplash (প্রতীকী ছবি)। তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ, এনডিটিভি ও বাসস (কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনের বরাতে)।
