Sunday, March 1, 2026
Latest:
Uncategorized

খামেনি নিহতের খবরে তোলপাড় ইরান: নেতৃত্বে কে, কী বলছে সংবিধান?

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার খবরে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা। রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন—এমন দাবি আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও বিষয়টি ঘিরে ভিন্নমতও সামনে এসেছে। ইসরায়েল তাঁর নিহত হওয়ার দাবি করলেও ইরান সরকার বলছে, তিনি জীবিত আছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যদি সত্যিই সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু হয়ে থাকে, তাহলে ইরানের নেতৃত্ব এখন কার হাতে যাবে?

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু, অপসারণ বা অক্ষমতার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। সে অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীনভাবে তিন সদস্যের একটি পরিষদ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই পরিষদে থাকেন দেশের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ধর্মীয় নেতা। তাঁদের তত্ত্বাবধানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

খামেনি নিহতের খবরে তোলপাড় ইরান: নেতৃত্বে কে, কী বলছে সংবিধান?……

এদিকে অনানুষ্ঠানিক সূত্রে জানা গেছে, ইরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানিকেও বিশেষ কিছু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও পাওয়া যায়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গতকাল শনিবার সকালে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে হামলার সময় খামেনি নিহত হন। অন্যদিকে বিবিসি বলছে, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানে ১ মার্চ থেকে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

গতকাল ভোরে ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইরানও ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে।

এ হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার পেছনে তিনটি প্রধান লক্ষ্য তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, প্রথমত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে উদ্ভূত ‘আসন্ন হুমকি’ মোকাবিলা, দ্বিতীয়ত দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌ সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং তৃতীয়ত ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা।

তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ইসরায়েলের দাবি, খামেনি নিহত; আর ইরান বলছে, তিনি রণাঙ্গন থেকেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এ দ্বৈত অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সব মিলিয়ে, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি গভীর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। খামেনির ভাগ্য নিয়ে ধোঁয়াশা কাটলেও, দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যে এক বড় পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে—তা বলাই যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *