আন্তর্জাতিক

ইরানে আজই হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে দেশটিতে আবারও সামরিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় রোববার (২৫ অক্টোবর) ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। তবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে একটি ‘বড় চুক্তিতে’ সম্মত হলে সামরিক অভিযান এড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন হামলা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার (২৪ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হামলার সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে কথা বলেন ট্রাম্প।

ইরানে আজই হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প…….

ইরানে হামলা কবে শুরু হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছি। সম্ভবত আগামীকাল (রোববার) হতে পারে।”

ট্রাম্পের দাবি, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী। তবে চুক্তির শর্ত মেনে চলার বিষয়ে তেহরানের আন্তরিকতা নিয়ে তাঁর সংশয় রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইরানিরা চুক্তি চায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তারা চুক্তির শর্ত পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে পারবে কি না।”

ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখাকে নিজের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুনে বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চালানোর পরও নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

ট্রাম্পের মতে, চলতি বছর আবারও হামলার সিদ্ধান্ত না নিলে গত বছরের অভিযান ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে যথেষ্ট ছিল কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকে যেত।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগের মতোই তেল পরিবহন হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত অনুযায়ী চুক্তিতে সম্মত না হলে সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশটিকে চুক্তিতে বাধ্য করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, “আমাকে হয়তো কাজটি সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় তারা চুক্তিতে আসতে পারে। তবে আমি নিশ্চিত নই। সামরিক অভিযান হোক বা চুক্তি—যেভাবেই হোক, আমরা জিতব।”

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা এবং নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা—দুই বিষয়ই সামনে এসেছে। তবে হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট নয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।