এপ্রিলজুড়ে একাধিক তাপপ্রবাহের আশঙ্কা, গরম থেকে মিলতে পারে সাময়িক স্বস্তি
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এপ্রিলের শুরুতেই তাপপ্রবাহের তীব্রতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গতকাল অন্তত ২৭টি জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মাসে এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ আঘাত হানতে পারে। পাশাপাশি কয়েক দফা মৃদু ও মাঝারি তাপপ্রবাহও দেখা দিতে পারে।
শনিবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর মধ্যেই কিছু এলাকায় বৃষ্টির দেখা মিলেছে—শরীয়তপুরসহ কয়েকটি জেলায় ইতোমধ্যে বৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী ঢাকার আশপাশেও বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তাদের মতে, রোববার থেকে ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে, যা তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে সাময়িক স্বস্তি এনে দিতে পারে।
এপ্রিলজুড়ে একাধিক তাপপ্রবাহের আশঙ্কা, গরম থেকে মিলতে পারে সাময়িক স্বস্তি…….
গতকাল রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের সব জেলাসহ ঢাকাসহ মোট ২৭টি জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। এর বাইরে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, রাঙামাটি, বরিশাল ও পটুয়াখালীতেও তাপপ্রবাহের প্রভাব ছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের মানদণ্ড অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি হলে মাঝারি, ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি হলে তীব্র এবং ৪২ ডিগ্রির বেশি হলে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়।
গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়—৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর পরেই ছিল রাজশাহী, যেখানে তাপমাত্রা ওঠে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে। রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেশি।
দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসে এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহের পাশাপাশি দুই থেকে চারটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ হতে পারে। তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি থাকলেও গরমের অনুভূতি বেশি থাকবে, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, ঢাকা, সিলেট ও বরিশালের কিছু এলাকায়।
তবে গত বছরের মতো দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের আশঙ্কা তুলনামূলক কম। কারণ হিসেবে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এ মাসে একাধিক বজ্রঝড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা তাপপ্রবাহের তীব্রতা কমাতে সহায়ক হবে।
সাধারণত এপ্রিল মাসে গড়ে ৯টি বজ্রঝড় হয়ে থাকে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মাসে ৫ থেকে ৭ দিন হালকা থেকে মাঝারি বজ্রঝড় এবং ১ থেকে ৩ দিন তীব্র কালবৈশাখী হতে পারে। এছাড়া সাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা থেকে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ও তৈরি হতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে তাপপ্রবাহের সময়কাল ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং তা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে। ফলে তাপমাত্রা খুব বেশি না বাড়লেও গরমের অনুভূতি বেশি তীব্র হতে পারে।
জুন পর্যন্ত পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, এই সময়ে তিন থেকে চারটি তীব্র এবং ছয় থেকে আটটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।
