Uncategorized

ইরানের জব্দ করা অর্থ ফেরত দিতে হবে, নইলে ডলারের প্রতি আস্থা কমবে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের জব্দ করা অর্থ শেষ পর্যন্ত ফেরত দিতে হবে। তার মতে, ওই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নয়; বরং এটি ইরানের নিজস্ব সম্পদ। অর্থ ফেরত না দিলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মার্কিন ডলারের প্রতি আস্থা কমে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জি-৭ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ জব্দ করে রেখেছে, তবে তা স্থায়ীভাবে আটকে রাখা উচিত নয়।

ইরানের জব্দ করা অর্থ ফেরত দিতে হবে, নইলে ডলারের প্রতি আস্থা কমবে: ট্রাম্প…………..

ট্রাম্প বলেন, “আমাদের কাছে তাদের অনেক অর্থ রয়েছে। কিন্তু সেটি আমাদের অর্থ নয়, এটি ইরানের অর্থ। একসময় আমরা সেটি জব্দ করেছিলাম। আমার বিশ্বাস, একসময় আমাদের তা ফেরত দিতেই হবে। অন্যথায় বিশ্বের মানুষ ডলারের ওপর আস্থা হারাতে পারে এবং ডলারে বিনিয়োগে অনাগ্রহী হয়ে উঠতে পারে।”

এদিকে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষর হয়েছে বলে জানা গেছে। চুক্তিতে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনার পথ তৈরির বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সমঝোতার আওতায় আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতায় ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই অর্থ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র প্রদান করবে না।

তিনি বলেন, “আমরা কোনো অর্থ দিচ্ছি না। ইরান যদি চুক্তির শর্ত মেনে চলে এবং দায়িত্বশীল আচরণ করে, তাহলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা সেখানে বিনিয়োগ করতে পারবেন। ৩০০ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগও সেই শর্তের ওপর নির্ভর করছে।”

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরান ইতোমধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তারা ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে।”

যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কিছু সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা আরোপিত প্রাথমিক ও গৌণ নিষেধাজ্ঞাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

এদিকে, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি পৃথক সমঝোতা স্মারকেও স্বাক্ষর করেছেন বলে জানা গেছে। বুধবার রাতে ফ্রান্সের ঐতিহাসিক ভার্সাই প্রাসাদে অনুষ্ঠিত এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। উভয় পক্ষের দাবি, সমঝোতাটি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *