এক লাখের বেশি শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা, প্রাথমিকে ৩৮ হাজার ৪৪৩ সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি শিগগির
দেশের শিক্ষা খাতে বড় ধরনের জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে এক লাখেরও বেশি শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি, নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাজারো শিক্ষক-প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলে ইউনেসকোর আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট অ্যান্ড মাল্টিপ্লায়ার গ্র্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এবং পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি শুরু
মন্ত্রী জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আপিল বিভাগের রায়ের পর আইনি জটিলতা দূর হওয়ায় বিষয়টি দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আদালতের রায়ের খবর পাওয়ার পরপরই তিনি সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন। পিএসসি দ্রুত প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র পাঠাতে বলেছে এবং খুব শিগগিরই তা পাঠানো হবে, যাতে বিশেষ ব্যবস্থায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।
বর্তমান নিয়োগবিধি অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে ৮০ শতাংশ নিয়োগ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে হয়ে থাকে।
৩৮ হাজার ৪৪৩ সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি আসছে
প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি সম্পন্ন হলে সমসংখ্যক সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য হবে। আগে থেকেই শূন্য থাকা পদসহ মোট ৩৮ হাজার ৪৪৩টি সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ
মন্ত্রী আরও জানান, দেশের এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষক, প্রভাষক ও ট্রেড ইন্সট্রাকটর নিয়োগ দেওয়া হবে।
এদিকে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) শূন্য থাকা প্রায় ৭৮ হাজার পদে নতুন নিয়োগ পদ্ধতি চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় নিবন্ধন পরীক্ষার পর সরাসরি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের শূন্য পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হবে। আগে নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের কাছ থেকে পৃথকভাবে আবেদন নিয়ে সুপারিশ করা হতো।
শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া নিয়ে উদ্বেগ
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এসএসসি পাস করার পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও প্রায় ৫ লাখ ৪৪ হাজার শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেয় না।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ শিক্ষা ধারায় প্রায় ৩৩ শতাংশ, কারিগরি শিক্ষায় ৫৪ শতাংশ এবং মাদ্রাসা শিক্ষায় ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী মাঝপথে ঝরে পড়ে। তিনি বলেন, এই প্রবণতা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক এবং এটি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
আপিল বিভাগের রায়ে খুলল পদোন্নতির পথ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা দূর হয়েছে আপিল বিভাগের সাম্প্রতিক রায়ের মাধ্যমে। রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর হওয়ায় দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, এই রায়ের ফলে শুধু প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতিই নয়, শিক্ষা খাতের অন্যান্য শূন্য পদ পূরণেও গতি আসবে।
নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব
শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক যদি নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তাহলে আগে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি নিতে হবে—এমন বিধান বিবেচনা করা উচিত।
জিপিএ-৫ বাণিজ্য বন্ধের দাবি
পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে অর্থের বিনিময়ে জিপিএ-৫ পাইয়ে দেওয়ার যে অভিযোগ শোনা যেত, এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের ভাইভা দুই সপ্তাহের মধ্যে
প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় তিন মাসের স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) পাওয়া গেছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ নিয়োগ পরীক্ষার মৌখিক পরীক্ষা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হবে।
