Uncategorized

নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তার চাইল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের শীর্ষ কর্মকর্তা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি সম্প্রতি নেতানিয়াহু জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করার পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটিও একই ধরনের অবস্থান প্রকাশ করেছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষণা, অ্যাডভোকেসি, নীতি ও ক্যাম্পেইন বিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক এরিকা গুয়েভারা রোসাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, মানবাধিকার রক্ষা এবং আইনের শাসনের প্রতি সম্মান জানাতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের উচিত আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তাদের অঙ্গীকার প্রদর্শন করা।

নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তার চাইল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের শীর্ষ কর্মকর্তা………..

এর আগে নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র জোহরান মামদানি জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি তার প্রশাসনের আইন বিভাগ পর্যালোচনা করছে। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, নেতানিয়াহুর স্থান দ্য হেগে। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী।”

উল্লেখ্য, গাজায় সংঘাত চলাকালে সংঘটিত কথিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

তবে এই পরোয়ানার বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন—উভয়েই আইসিসির এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। এছাড়া জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ মামদানির মন্তব্যকে “নিছক রাজনৈতিক নাটক” বলে অভিহিত করেন। তার যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য নয়।

অন্যদিকে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তাকে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি মোটেও উদ্বিগ্ন নন। জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যাননও নিশ্চিত করেছেন যে, নেতানিয়াহু নির্ধারিত সময়েই নিউইয়র্ক সফর করবেন এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়ে ইসরায়েলের অবস্থান ও আত্মরক্ষার অধিকারের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরবেন।

এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আইসিসির পরোয়ানার কার্যকারিতা, আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রগুলোর আইনি বাধ্যবাধকতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *