তৃণমূল থেকে ক্রীড়ার জাগরণে অঙ্গীকার আমিনুলেরসাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা মতবিনিময়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
যুগের পর যুগ কেটে যায়। মন্ত্রী বদলায়, সচিব বদলায়, খেলোয়াড় বদলায়—কিন্তু দেশের ক্রীড়াঙ্গনের চিত্র খুব একটা বদলায় না। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধিভুক্ত ৫২টি ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশন থাকলেও অনেক খেলাই সাধারণ মানুষের অজানা থেকে যায়। এই স্থবিরতা ভাঙার প্রত্যয় নিয়ে এবার সামনে এলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
গতকাল ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে এক খোলামেলা মতবিনিময় সভায় তিনি ঘোষণা দেন—ক্রীড়ার উন্নয়ন শুরু হবে তৃণমূল থেকে, স্কুলের মাঠ থেকে। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক দীর্ঘদিন মাঠে খেলেছেন, ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। এবার সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাস্তব পরিবর্তন আনতে চান তিনি।
সভায় তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিভা অন্বেষণ, সজনপ্রীতি ও দলপ্রীতি পরিহার করে যোগ্য ও নিবেদিতপ্রাণ সংগঠকদের এগিয়ে আনা, স্কুলের পাঠ্যক্রমে সম্ভাবনাময় খেলা অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রতিশ্রুতিশীল খেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা খেলাধুলাকে তৃণমূল থেকে জনপ্রিয় করে তুলতে চাই। শুধু বড় বড় স্টেডিয়াম নয়, জেলা-উপজেলায় খেলার মাঠ তৈরি ও সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। স্টেডিয়াম অনেক সময় বন্ধ থাকে, কিন্তু খোলা মাঠ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাঠই সবচেয়ে কার্যকর।”
তিনি আরও জানান, বিদ্যমান ক্রীড়া স্থাপনাগুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
স্কুল পর্যায়ে অন্তত পাঁচটি খেলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। জনপ্রিয় দুই খেলা ফুটবল ও ক্রিকেটের পাশাপাশি অন্য তিনটি খেলা নির্ধারণে সাংবাদিকদের মতামত চান। সাংবাদিকরা কারাতে, দাবা, হ্যান্ডবল ও অ্যাথলেটিক্সকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
৫২টি নিবন্ধিত ফেডারেশন থাকলেও সম্ভাবনাময় খেলাগুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। ফুটবল ও ক্রিকেটের পাশাপাশি হকিকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খেলা হিসেবে আরচারি ও শুটিংয়ের কথাও উঠে আসে।
এ ছাড়া ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সীমিত বাজেট, জেলা ক্রীড়া সংস্থার গঠনপ্রক্রিয়া, গত এক যুগের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ফেডারেশনগুলোর গ্রেডিং ব্যবস্থা চালু এবং সময়োপযোগী ক্রীড়া নীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন সাংবাদিকরা।
সব প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে আমিনুল হক বলেন, “এখানেই আলোচনা শেষ নয়, বরং এখান থেকেই কাজের শুরু। প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে কমিশন বা কমিটি গঠন করে বাস্তবায়নের তদারকি করা হবে।”
রাজধানীর পল্টন-গুলিস্তান এলাকার স্টেডিয়ামপাড়া নিয়ে উদ্বেগও উঠে আসে আলোচনায়। সন্ধ্যার পর এলাকায় মাদকের বিস্তার ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ক্রীড়া সাংবাদিকদের সংগঠনে চুরির ঘটনাও ঘটেছে। এ প্রসঙ্গে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, “স্টেডিয়াম এলাকার নিরাপত্তা ও পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।”
তৃণমূল থেকে ক্রীড়ার পুনর্জাগরণের যে অঙ্গীকার তিনি করেছেন, তা বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হয়—এখন সেটিই দেখার বিষয়।
