এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম পে-স্কেলে বেতন দিতে ৩২৬৭ কোটি টাকা চাইল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীকে নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য চাওয়া এ অর্থের মধ্যে রয়েছে বকেয়াসহ মোট ১২ মাসের অতিরিক্ত বেতন-ভাতার হিসাব।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম পে-স্কেলে বেতন দিতে ৩২৬৭ কোটি টাকা চাইল শিক্ষা মন্ত্রণালয়…..
এদিকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পূর্বনির্ধারিত অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচির পরিবর্তে ইনডোরে সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ছয় মাসের বকেয়াসহ মোট ১২ মাসের বেতন-ভাতার হিসাব মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠায়। পরে ওই হিসাবের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। তাদের ২০২৬ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা দিতে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে।
এ লক্ষ্যে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ২ হাজার ৫৩১ কোটি ৫৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৫৫ টাকা এবং বেসরকারি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ৭৩৬ কোটি ৩৫ লাখ ৬৬ হাজার ৪০১ টাকা চাওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৮৮ লাখ ৯১ হাজার ২৫৬ টাকা।
মাউশির হিসাব অনুযায়ী, বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বাবদ ২ হাজার ২৫৫ কোটি ৯৩ লাখ ১২ হাজার ৮১৯ টাকা এবং বিভিন্ন ভাতা বাবদ ২৭৫ কোটি ৬০ লাখ ১২ হাজার ৩৬ টাকা প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে বেসরকারি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বাবদ ৬৬৫ কোটি ২৩ লাখ ২৭ হাজার ৫১১ টাকা এবং ভাতা বাবদ ৭১ কোটি ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯০ টাকা প্রয়োজন হতে পারে।
চিঠিতে শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অনুকূলে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সোমবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা শিগগিরই নতুন পে-স্কেলের আওতায় আসবেন। মন্ত্রীর এ বক্তব্য এবং অর্থ বরাদ্দ চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাঠানোর বিষয়টি শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
অবস্থান কর্মসূচির পরিবর্তে সংবাদ সম্মেলন
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবি আদায়ে পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে পরিবর্তন এনেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং চলমান শ্রমিক আন্দোলনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর পরিবর্তে ইনডোরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করবে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক-কর্মচারীদের তিন দফা দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়নে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
তবে কর্মসূচির তারিখ ও মূল উদ্দেশ্য অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠন।
নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থ বরাদ্দ চাওয়ার এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা। এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ অনুমোদন এবং পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন দেশের প্রায় ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী।
