জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতের দাবি, সরকারকে কঠোর বার্তা জামায়াত আমিরের
জুলাই হত্যাকাণ্ডসহ অতীতের সকল গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে সরকারের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “হয় আপনারা বিচার নিশ্চিত করুন, না হয় সরে যাওয়ার পথ খুঁজে বের করুন। অন্যায় ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে জনগণ আবারও আন্দোলন ও বিপ্লব গড়ে তুলবে।”
মঙ্গলবার রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে আয়োজিত ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট কর্তৃক সংঘটিত সকল গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার দাবি’ শীর্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতের দাবি, সরকারকে কঠোর বার্তা জামায়াত আমিরের…………..
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছরের শাসনের পর দেশের মানুষ একটি নতুন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিল। তবে বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে সেই প্রত্যাশা ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে যারা গুম, খুন ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা এখন সেই অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে। বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকার পাশাপাশি গত চার মাসে ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াত আমির বলেন, নিজেদের রাজনৈতিক কর্মীদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়।
দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলীয়করণ বাড়ছে। এমনকি খেলাধুলার অঙ্গনও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকছে না বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে যদি আবার একই ধরনের শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না। শহীদদের আত্মত্যাগকে মূল্যহীন হতে দেওয়া যাবে না এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।
গাইবান্ধায় ছাত্রশিবিরের এক তরুণ নেতাকে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনার উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একজন মানুষকে হত্যা করে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হলেও কোনো আদর্শকে নির্মূল করা যায় না।
ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ এ দেশের মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রোথিত রয়েছে এবং কোনো শক্তিই সেই আদর্শকে মুছে ফেলতে পারবে না।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “একসময় আপনারা নিপীড়নের শিকার ছিলেন, এখন যেন নিপীড়কের ভূমিকায় না যান। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করুন।”
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, “পুরোনো বা নতুন—কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদই দেশের মানুষ মেনে নেবে না। ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ অন্যান্য নেতারা।
