Uncategorized

‘তিন স্বজন বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন—কিছুই জানি না’

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর চট্টগ্রামে থাকা নেপালি শিক্ষার্থীদের উৎকণ্ঠা যেন কাটছেই না। কেউ পরিবারের খোঁজ পেয়েছেন, আবার কারও স্বজন এখনো নিখোঁজ। ফোন বন্ধ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন—দূর দেশে বসে প্রিয়জনের কোনো খবর না পাওয়ার অসহায় অপেক্ষায় দিন কাটছে তাঁদের।

‘তিন স্বজন বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন—কিছুই জানি না’…..

চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের পাবলিক হেলথ বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ২০ বছর বয়সী তারা থাপা মাগারের তিন স্বজন নেপালের দুর্গত একটি জেলায় কাজ করছিলেন। বন্যা ও ভূমিধসের পর থেকে তাঁদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

‘তিন স্বজন বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন—কিছুই জানি না’……

তারা বলেন, ‘আমার তিন স্বজন বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন—কিছুই জানি না। দেশ থেকে এত দূরে বসে শুধু অপেক্ষা করছি। এর চেয়ে অসহায় সময় আর কী হতে পারে।’

নেপালের রামেছাপ জেলার খাঁড়া দেবী পৌরসভার বাসিন্দা তারা। গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যার খবর প্রথমে ফেসবুকে দেখতে পান তিনি। খবর পাওয়ার পরপরই পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। শহরে থাকা নিকট পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা হলেও গ্রামের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

‘তিন স্বজন বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন—কিছুই জানি না’…..

ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে দুর্গত এলাকার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কেও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তারার নিজের বাড়ির এলাকাটি এখন পর্যন্ত নিরাপদ থাকলেও নিখোঁজ তিন স্বজনের কথা ভেবে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।

তারা বলেন, ‘প্রথমে খুব ভয় পেয়েছিলাম। স্বজনদের ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। কোথায় আছেন, কী হয়েছে—কেউ বলতে পারছিলেন না। তিন স্বজন ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যরা নিরাপদ আছেন।’

নেপালের এই বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত কয়েক শ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ, পাথর ও মাটির বড় ধস নদীতে পড়ে ভোতেকোশি অববাহিকায় প্রবল কাদা-পাথরমিশ্রিত ঢল নামার প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। পরে সেই ঢল ত্রিশূলী নদী দিয়ে ভাটির দিকে নেমে বসতি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করে।

দুর্গম এলাকায় এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিচিতজন নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় সুস্মিতা

চট্টগ্রামের একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সুস্মিতা রোকাও নেপালের তানাহুনের বাসিন্দা। তাঁর মা-বাবা কাঠমান্ডুতে নিরাপদে আছেন। তানাহুনে তাঁদের বাড়িতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। কিন্তু পরিচিত কয়েকজনের দুর্দশার খবর তাঁকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

সুস্মিতার এক প্রতিবেশী সেনা কর্মকর্তা বন্যার কবলে পড়েছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর মামা রাসুয়া জেলায় কর্মরত ছিলেন। দুর্যোগের পর থেকে তাঁর সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

সুস্মিতা বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর প্রথমেই বাড়িতে ফোন করি। মা-বাবা নিরাপদ আছেন জেনে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি। কিন্তু পরিচিত একজন মানুষ এখনো নিখোঁজ। তাঁর পরিবার কী অবস্থার মধ্যে আছে, ভাবলেই কষ্ট হয়।’

ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্যার খবর পান সুস্মিতা। এরপর থেকে নিয়মিত পরিবার ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তিনি।

তাঁর ভাষ্য, উজানের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে ভেসে আসা মরদেহ তানাহুনের ত্রিশূলী নদীতেও উদ্ধার হচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

সুস্মিতার কথায়, ‘কেউ স্বজনকে খুঁজছেন, কেউ একটি ফোনের অপেক্ষায় আছেন। আবার কোথাও মরদেহ পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু পরিচয় জানা যাচ্ছে না। পরিবারগুলো অন্তত জানতে চায়, তাদের প্রিয়জন কোথায়।’

দূরে থেকেও পাশে থাকার চেষ্টা

নেপালে থাকা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি বাংলাদেশে থাকা নেপালি শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো করে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।

সুস্মিতা জানান, উইমেন নেপালি স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন বাংলাদেশের মাধ্যমে নেপাল দূতাবাসের সমন্বয়ে নেপাল সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুদানের অনলাইন ঠিকানা প্রচার করা হচ্ছে। উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসা, আশ্রয় ও পুনর্বাসনের কাজে সহায়তার জন্যও মানুষকে উৎসাহিত করছেন তাঁরা।

সুস্মিতা বলেন, ‘আমরা নেপালে গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছি না। তবে সঠিক তথ্য ও সহায়তার আবেদন মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

‘মনটা নেপালে পড়ে আছে’

নেপালের ললিতপুরের বাসিন্দা অনিতা তিমালসিনার পরিবারের কেউ সরাসরি দুর্যোগে আক্রান্ত হননি। তাঁদের বাড়ি বন্যাকবলিত এলাকা থেকে দূরে। তবু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসযজ্ঞের ছবি ও ভিডিও তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

২২ বছর বয়সী অনিতা একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। বন্যার খবর ফেসবুকে দেখার পর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। পরিবারের সবাই নিরাপদে আছেন জানলেও দেশের মানুষের দুর্দশার কথা ভেবে স্বস্তি পাচ্ছেন না।

অনিতা বলেন, ‘মনটা নেপালে পড়ে আছে। কোনো কাজে মন বসাতে পারছি না। চোখের সামনে বারবার বন্যার ছবি আর ভিডিও ভেসে উঠছে। দূরে বসে নিজেকে খুব অসহায় লাগছে।’

তিনি বলেন, ‘এটি ভয়ানক ঘটনা। এমন বিপর্যয় হবে, কেউ কল্পনাও করেননি। কত মানুষ ঘরবাড়ি, জমি, পরিবার ও জীবিকা হারিয়েছেন। তাঁদের কষ্ট কেমন, দূরে বসে তা শুধু অনুভব করার চেষ্টা করছি।’

তিন শিক্ষার্থীর মতে, দুর্গত এলাকায় এখন উদ্ধারকাজের পাশাপাশি আশ্রয়, খাবার, বিশুদ্ধ পানি, কাপড় ও ওষুধের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। তাঁরা দ্রুত নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং দুর্গত ও আটকে পড়া মানুষের কাছে উদ্ধারকারী দল পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অনিতার ভাষায়, **‘এমন কঠিন সময়ে ছোট একটি সহায়তাও কারও জন্য অনেক বড় হতে পারে। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নেপালের ক্ষতিগ্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *