রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদারে আরও ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ
রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে বড় পরিসরে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নতুন করে আরও ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাং ও ছিনতাই রোধে প্রায় ৭০০টি সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ওই এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে এবং বসিলায় নতুন একটি পুলিশ ফাঁড়ি চালু করা হয়েছে। আরও একটি ফাঁড়ি স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদারে আরও ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ………
এছাড়া রাজধানীর ৫০টি থানায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি), সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) এবং পেট্রোল ইন্সপেক্টর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, বর্তমানে রাজধানীতে মোট ১ হাজার ৯১০টি সিসি ক্যামেরা সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে ডিএমপির নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে ৭১০টি ক্যামেরা এবং গুলশান-বনানীসহ বিভিন্ন এলাকার ‘ল অ্যান্ড অর্ডার কো-অর্ডিনেশন কমিটির’ ব্যবস্থাপনায় রয়েছে আরও ১ হাজার ২০০টি ক্যামেরা।
তিনি আরও জানান, নতুন ১১ হাজার ক্যামেরা স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ দ্রুত শনাক্ত ও রহস্য উদ্ঘাটন করা সহজ হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারির ফলে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর দ্রুত রেসপন্স টিম পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।
এছাড়া পহেলা বৈশাখ, জাতীয় দিবসসহ বড় জনসমাগমের অনুষ্ঠানগুলোতে অস্থায়ী সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীতে অপরাধ দমনে নিয়মিত টহল, ব্লক রেইড এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ধারালো অস্ত্র ব্যবহারকারী কিশোর গ্যাং সদস্যদের আইনের আওতায় আনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু অপরাধ নিয়ন্ত্রণেই নয়, রাজধানীর যানজট ব্যবস্থাপনাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
