কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এমপি ও আলোচিত ইসলামি বক্তা আমির হামজা-এর একটি বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে তার করা মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিভিন্ন মহল থেকে এর কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।
কী ছিল সেই বক্তব্য?
সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সংসদে পাশে বসা নারী এমপিদের শারীরিক গঠন নিয়ে কটূক্তি করছেন আমির হামজা। সেখানে তিনি রুমিন ফারহানা এবং প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন-এর প্রসঙ্গ টেনে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। পাশাপাশি ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ আহমেদ-এর নামও উল্লেখ করেন।
আমির হামজার প্রতিক্রিয়া
বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে আমির হামজা দাবি করেন, দীর্ঘ আলোচনার মধ্যে কোথায় কী বলেছেন তা তার মনে নেই। তিনি বলেন, “দেড় ঘণ্টার বক্তব্যে বলা প্রতিটি কথা মনে রাখা সম্ভব নয়।” সাম্প্রতিক সময়ে এই মন্তব্য করেছেন কিনা—এ প্রশ্নেও তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।
নারী এমপিদের ক্ষোভ
এই বক্তব্যের পর সংশ্লিষ্ট নারী এমপিরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।
রুমিন ফারহানা বলেন, এটি তার কাছে নতুন কিছু নয়; বরং আমির হামজার অতীত আচরণেরই প্রতিফলন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংসদের আসনবিন্যাস সম্পর্কেও তার মৌলিক ধারণার অভাব রয়েছে।
অন্যদিকে ফারজানা শারমিন এই মন্তব্যকে অত্যন্ত অশালীন ও মর্যাদাহানিকর বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের মন্তব্য শুধু নারী এমপিদের নয়, পুরো সংসদ এবং দেশের নারীদের অপমান করেছে।”
নায়াব ইউসুফ আহমেদও তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের বক্তব্য সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় দেয় এবং নারীদের প্রতি অসম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।
দলীয় অবস্থান
এদিকে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক জানান, বিষয়টি নিয়ে দল বিব্রত। তিনি বলেন, আমির হামজাকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে এবং তাকে সংযত হতে বলা হয়েছে।
সামগ্রিক প্রতিক্রিয়া
পুরো ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে নারী বিদ্বেষী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন এবং একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন বক্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করছেন।
