Friday, April 3, 2026
Latest:
Uncategorized

চুয়াডাঙ্গায় তাপপ্রবাহ: মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় নাজেহাল জনজীবন

চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মাঝারি মাত্রার তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। শুক্রবার জেলায় চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশের মধ্যেও এদিনের সর্বোচ্চ। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩১ শতাংশ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।

এর আগের দিন বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ছিল ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ধারাবাহিকভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি।

শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র রোদ আর দমবন্ধ করা গরমে মানুষ কার্যত অতিষ্ঠ। বিশেষ করে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। জীবিকার তাগিদে তাদের এই প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে কাজ করতে হচ্ছে, যা অনেকের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করছে। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তাপের কারণে। ফলে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে চাইছেন না সাধারণ মানুষ।

চুয়াডাঙ্গায় তাপপ্রবাহ: মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় নাজেহাল জনজীবন………

পথচারী কিতাব আলী বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড গরম পড়ছে। দুপুরের দিকে তো বাইরে থাকা একেবারেই কষ্টকর হয়ে যায়। মনে হয় শরীর যেন পুড়ে যাচ্ছে।”

কৃষক আকবর আলী জানান, “সকাল ৭টায় মাঠে কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু তীব্র গরমের কারণে ১১টার পর আর কাজ করা সম্ভব হয়নি। এমন গরমে কাজ করা সত্যিই খুব কষ্টকর।”

মোটরসাইকেল চালক আক্তারুল ইসলাম বলেন, “গরমে মনে হচ্ছে যেন সিদ্ধ হয়ে যাচ্ছি। দূরে যেতে হবে, তাই একটু ছায়ায় দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিচ্ছি। এই সুযোগে এক গ্লাস ঠাণ্ডা বেলের শরবত খেয়ে কিছুটা স্বস্তি পেলাম।”

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, বর্তমান মাঝারি তাপপ্রবাহ আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি সবাইকে প্রয়োজন ছাড়া রোদে বাইরে না যাওয়ার এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *