ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে জোটগত সমীকরণ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। আসন্ন এই নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পৃথক জোটে অংশ নেবে—এমনটাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র।
ইসি জানায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী দল ও সংসদ সদস্যদের কাছে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে তাদের জোটগত অবস্থান জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এর জবাবে প্রায় সব দল ও নির্বাচিত সদস্যরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত জোটে দলের নির্বাচিত ২০৮ জন সংসদ সদস্য থাকবেন। তাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে জোটের শরিক দল—গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী তাদের ৬৮ জন সংসদ সদস্যকে নিয়ে পৃথক জোট গঠন করছে। এই জোটে যুক্ত হচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির ছয়জন সদস্য এবং খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য। তবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন সদস্য কোনো জোটে না থাকার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যেও দেখা গেছে ভিন্ন অবস্থান। সাতজন স্বতন্ত্র এমপির মধ্যে ছয়জন একটি আলাদা মোর্চা গঠনের পরিকল্পনায় রয়েছেন। তবে একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এবং ইসলামী আন্দোলনের একমাত্র নির্বাচিত প্রতিনিধি কোনো জোটে যোগ না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ইসির সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আগামী ৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য কমিশন সভায় সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। একই সঙ্গে জোটগত বিষয়গুলো নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা নির্বাচনের তথ্য, চিত্র ও প্রাসঙ্গিক উপাত্ত সংগ্রহ করে একটি ডকুমেন্টেশন প্রস্তুত করবে।
সব মিলিয়ে, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান এখন অনেকটাই পরিষ্কার। পৃথক জোটে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
