Sunday, April 12, 2026
Latest:
Uncategorized

সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্রের শক্তি ও মর্যাদার প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঢাকা, রবিবার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়; বরং এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের শক্তি, সার্বভৌমত্ব এবং মর্যাদার প্রতীক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংবিধানের প্রতি আনুগত্য এবং জনগণের আস্থাই হতে হবে সশস্ত্র বাহিনীর পথচলার মূল ভিত্তি।

রবিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের সর্বোচ্চ ও পবিত্র দায়িত্ব। তিনি এমন একটি পেশাদার বাহিনী গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যাদের প্রতি জনগণের থাকবে অগাধ আস্থা এবং যাদের সক্ষমতাকে বহিঃবিশ্ব সম্মানের চোখে দেখবে।

সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্রের শক্তি ও মর্যাদার প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান……………

তিনি আরও বলেন, পেশাদারিত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বদা উচ্চ নৈতিকতা ও আদর্শ বজায় রেখে কাজ করতে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে বাহিনীর মধ্যে যে দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত হয়েছিল, তা ভবিষ্যতেও অটুট রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা, ২১ নভেম্বরের সামরিক ঐক্য এবং ৭ নভেম্বরের পুনর্জাগরণ—এই তিনটি ধারা বাহিনীর ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। এই গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাবলি এবং ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন এবং বলেন, এসব অধ্যায় দেশের জনগণের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, কঠিন পরিস্থিতিতেও বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

সাম্প্রতিক নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করতে সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা গণতন্ত্রের প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

পিলখানা ট্র্যাজেডির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালের ওই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে বাহিনীকে বিতর্কিত করারও চেষ্টা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সশস্ত্র বাহিনীর সুনাম ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বে দেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী জানান, আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি স্মার্ট, দক্ষ ও বিশ্বমানের সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *