বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা ১২০০ ছাড়িয়েছে, যা দলটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যাপক আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গত তিন দিনে বিপুলসংখ্যক নেত্রী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। নির্ধারিত সময় রোববার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জমা দেওয়ার চাপ বেশি থাকায় রাত ৯টা পর্যন্ত ফরম গ্রহণ করা হয়। এ পর্যন্ত ৯ শতাধিক পূরণকৃত ফরম জমা পড়েছে, যদিও মোট বিক্রি হওয়া ফরমের সংখ্যা ১২০০-এর বেশি।
দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনোনয়ন ফরম জমা নেওয়ার সময়সীমা আরও একদিন বাড়িয়ে সোমবার পর্যন্ত করা হয়েছে। এতে করে আরও প্রার্থীরা সুযোগ পাচ্ছেন তাদের আবেদন জমা দেওয়ার।
দলীয় সূত্র জানায়, ১০ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এই মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও জমা নেওয়ার কার্যক্রম চলে। এতে শুধু দলীয় নেত্রীরাই নন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ—যেমন শিক্ষক, আইনজীবী, শিল্পী ও উদ্যোক্তারাও অংশ নেন। ফলে প্রার্থী তালিকায় বৈচিত্র্যও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তবে এই বিপুল আগ্রহের মধ্যেই কিছুটা বিতর্কও তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় ও ত্যাগী নেত্রীরা অভিযোগ করছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা না থাকা অনেকেই মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়ায় তাদের মূল্যায়ন কমে যেতে পারে। তাদের মতে, ত্যাগীদের উপেক্ষা করা হলে সংগঠনের ভিত দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, এবারের প্রার্থী বাছাইয়ে শুধু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, প্রার্থীর দক্ষতা, মেধা ও মননশীলতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, রাজনীতিতে সেলিব্রিটিদের অংশগ্রহণ নতুন কিছু নয় এবং তাদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ কাম্য নয়।
রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ সরাসরি মাঠে না থাকলেও একজন পরিচিত শিল্পী বা প্রভাবশালী ব্যক্তির রাজনৈতিক সমর্থন দলকে শক্তিশালী করতে পারে। তাই প্রার্থী নির্বাচনে বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
