চুরির অপবাদে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, আটক ২
ঢাকার সাভারের উলাইল এলাকায় অটোরিকশা চুরির অপবাদে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহত আবুল খায়ের পাটোয়ারী (৩০) চাঁদপুর সদর উপজেলার কল্যাণপুর দাসাদী গ্রামের বাসিন্দা এবং লোকমান পাটোয়ারীর ছেলে। পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
চুরির অপবাদে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, আটক ২…………
নিহতের প্রতিবেশী আব্দুল মোতালেব হোসেন জানান, আবুল খায়ের দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। গত রোববার ভোরে তিনি গ্রামের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরে সাভার থানা থেকে ফোন পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কামরুন্নাহার জানান, সোমবার দুপুরে দুই ব্যক্তি অটোরিকশাযোগে গুরুতর আহত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এরপর ওই দুই ব্যক্তি মরদেহ রেখে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশকে জানায়।
পুলিশ জানায়, আঙুলের ছাপের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে উলাইল এলাকায় অটোরিকশা চুরির সন্দেহে আবুল খায়েরকে আটক করা হয়। এরপর তাকে কয়েক দফা মারধর করা হয়। পরে তাকে একটি অটোরিকশা গ্যারেজে নিয়ে গিয়ে আবারও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আটক গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামান দাবি করেন, স্থানীয় কয়েকজন অটোরিকশাচালক ওই যুবককে তার গ্যারেজে নিয়ে আসেন এবং সেখানে মারধর করেন। পরে তিনি একজন চালকের সহায়তায় আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করার পর আতঙ্কিত হয়ে হাসপাতাল থেকে চলে আসেন বলে দাবি করেন।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে অটোরিকশাচালক সবুজ ওরফে শুভ এবং গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামানকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
