আগুনে পুড়ে ছাই আনন্দের অবকাশ, ইনানীর রিসোর্টে প্রাণ গেল ১০ জনের
- পরিবার ও স্বজনদের নিয়ে কক্সবাজারে আনন্দঘন সময় কাটাতে এসে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারালেন ১০ জন। পর্যটনকেন্দ্র উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ এই আগুনে নিহতদের মধ্যে শিশু, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও একই পরিবারের সদস্য রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পরস্পরের নিকটাত্মীয়। এ ঘটনায় আহত আরও সাতজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এখনো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান।একই পরিবারের তিন বোনসহ স্বজনদের মৃত্যুঅগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা, তাঁর তিন বোন ফারিয়া কবির (৩৩), ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩)। এ ছাড়া নিহত হয়েছে পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফাইজান নূর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামী।ফাইজান নূর ছিলেন নাবিলার বড় বোন ফারিয়া কবিরের ছেলে। নিহত নাফিজ, নাবিলা, ফারিয়া, মালিহা ও আলভী পরস্পরের কাজিন। স্বজনদের নিয়ে বেড়াতে এসে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের এমন মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।নাফিজের পরিবারের নয়জন সদস্য কক্সবাজার ভ্রমণে এসে ওই রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন প্রাণে বেঁচে গেছেন।নিহতদের মধ্যে স্কুলশিক্ষক ও দুই পর্যটকনিহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯)। তিনি ঢাকার আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন।ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে জিহাদ হাওলাদার ও তারিকুল ইসলাম নামের আরও দুই পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। তবে তাঁদের বিস্তারিত পরিচয় এখনো জানা যায়নি। অপর এক নিহত ব্যক্তির পরিচয়ও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি, কেউ বেরিয়েছেন জানালা ভেঙেরিসোর্টে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেতরে থাকা পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন তাঁরা। এ সময় কয়েকজন দরজা ও জানালা ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ আগুন থেকে বাঁচতে ভবন থেকে লাফ দিয়েও প্রাণ রক্ষার চেষ্টা করেন।আনন্দের অবকাশ কাটাতে গিয়ে এমন ভয়াবহ বিপর্যয়ে প্রাণহানির ঘটনায় শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
