Uncategorized

ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। তেহরানে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি ও ‘চড়া মূল্য’ দিতে বাধ্য করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার মোহাম্মদ রেজা নাকদি।

ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের….

মার্কিন সংবাদমাধ্যম পিবিএসকে দেওয়া এক বিরল সাক্ষাৎকারে নাকদি বলেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতাও তত বাড়বে। তার দাবি, গত পাঁচ মাসের সংঘাত থেকে ইরান ইতোমধ্যে যুদ্ধ পরিচালনা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

নাকদির ভাষায়, ইরানের লক্ষ্য এমন একটি প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে ভবিষ্যতে কোনো দেশ ইরানে হামলা চালানোর আগে সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে ভাবতে বাধ্য হয়।

ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের…….

ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াই তাদের পরিকল্পনা কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধকে ২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে দেওয়া হতে পারে সেই কৌশলের একটি অংশ। তার মতে, এতে ভবিষ্যতে ইরানে হামলার কথা ভাবা যেকোনো পক্ষ বুঝতে পারবে যে এর জন্য বড় মূল্য দিতে হবে।

পারমাণবিক হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা

চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে কি না—এমন প্রশ্নেও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন নাকদি। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে পারমাণবিক হামলা চালায়, তাহলে সেটি ওয়াশিংটনের জন্য মারাত্মক ভুল হবে।

ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের…

তার বক্তব্য, এমন হামলার পর বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের তুলনা করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রয়োজন নেই: নাকদি

ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির বিষয়ে আলোচনা করছে কি না, জানতে চাইলে নাকদি তা নাকচ করে দেন। তার দাবি, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মধ্য দিয়েই ইরান বিশ্বজুড়ে মানুষের সমর্থন অর্জন করেছে এবং সেটিই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন তিনি।

‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগানের ব্যাখ্যা

ইরানের বহুল ব্যবহৃত ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগান নিয়েও কথা বলেন নাকদি। তার দাবি, এই স্লোগান যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে নয়; বরং দেশটির এমন নেতৃত্বের বিরুদ্ধে, যাদের নীতির কারণে বিভিন্ন দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ ও সংঘাত তৈরি হয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন নিয়েও দাবি

ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে নাকদি বলেন, দেশটি শুধু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ওপর নির্ভরশীল নয়। তবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত রাখার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, যুদ্ধের মধ্যেও নিরাপদ উপায়ে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের বিভিন্ন ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। এমনকি যুদ্ধ বছরের পর বছর চললেও ইরানের পক্ষ থেকে শেষ দিন পর্যন্ত রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

নাকদি আরও দাবি করেন, ইরান প্রতিদিন যত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, তার চেয়ে কম ব্যবহার করছে। আর কোনো একসময় যদি ইরানের হাতে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমেও যায়, তখন দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *