বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে নতুন চিন্তার হাওয়া বইছে। আসন্ন পাকিস্তান সিরিজকে সামনে রেখে দল ঘোষণার পর এবার খেলার ধরণ নিয়েও ইঙ্গিত দিলেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। তার কথায়, প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে কিছুটা ভিন্ন ধরনের ক্রিকেট খেলতে চায় বাংলাদেশ, যদিও সেটিকে সরাসরি “বাজবল” বলা যাবে না।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) গণমাধ্যমে কথা বলতে গিয়ে সুমন জানান, দল নিজেদের খেলার ধরনে কিছু পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত। তবে সেই পরিবর্তন হবে খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক শক্তি ও দক্ষতাকে কেন্দ্র করে। তিনি বলেন, প্রতিটি ক্রিকেটারের নিজস্ব খেলার স্টাইল আছে—সেটিকে বদলে ফেলার চেয়ে বরং সেটাকেই কাজে লাগাতে চান তারা। যেমন, কাউকে অন্য কারও মতো খেলতে বাধ্য না করে নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে উৎসাহ দেওয়া হবে।
আধুনিক ক্রিকেটের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে এখন ২০০ রান করলেও জয় নিশ্চিত নয়। তাই আরও আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। এই লক্ষ্য পূরণে হৃদয়, শামীম কিংবা ইমনের মতো আক্রমণাত্মক মানসিকতার খেলোয়াড়দের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষায়, শুধু পরিকল্পনা করলেই হবে না—সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত খেলোয়াড়।
দল নির্বাচন প্রসঙ্গেও পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক। তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের নির্বাচন করা হয় তাদের খেলার ধরন বিবেচনা করেই, এবং দলে এসেও তারা যেন সেই স্বাভাবিক খেলাটা ধরে রাখে—সেটাই চাওয়া।
এদিকে, পাকিস্তান সিরিজের দলে নতুন মুখ হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন অমিত হাসান। তাকে নিয়ে সুমনের মূল্যায়ন বেশ ইতিবাচক। তিনি মনে করেন, ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে অমিত নিজেই দলে জায়গা করে নিয়েছেন। নির্বাচকদের আলাদা করে কিছু করার প্রয়োজন হয়নি—তার পারফরম্যান্সই তাকে নির্বাচিত করেছে।
সব মিলিয়ে, আসন্ন সিরিজে বাংলাদেশকে কিছুটা ভিন্ন, আরও আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক রূপে দেখার ইঙ্গিত মিলছে। এখন দেখার বিষয়, মাঠে সেই পরিকল্পনার কতটা সফল প্রয়োগ করতে পারে টাইগাররা।
