ইউনিভার্সেল হেলথ কেয়ার নিশ্চিতে স্বাস্থ্য খাতে বাড়তি বরাদ্দের ঘোষণা
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকারের ঘোষিত ইউনিভার্সেল হেলথ কেয়ার বাস্তবায়নে আগামী জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হবে। পাশাপাশি বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ-এর ১৮ তলা নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইউনিভার্সেল হেলথ কেয়ার নিশ্চিতে স্বাস্থ্য খাতে বাড়তি বরাদ্দের ঘোষণা……….
মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে জায়গার সংকট ও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ অনেক সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে সরকার।
তিনি জানান, নতুন এই ব্যবস্থায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেবে বেসরকারি হাসপাতাল, আর চিকিৎসার ব্যয় বহন করবে সরকার।
বিশ্ব পরিস্থিতির প্রভাব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল ও গ্যাস খাতে অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দেশের জ্বালানি সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগের সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া রেখে গেছে। অতীতে দুর্নীতির মাধ্যমে জনগণের অর্থ অপচয় হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করছে এবং আগামী দুই বছরের মধ্যে বিভিন্ন খাত ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
মেডিকেল শিক্ষার মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানহীন মেডিকেল কলেজের নেতিবাচক প্রভাব পুরো জাতিকেই বহন করতে হয়। তাই স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। রাজনৈতিক প্রভাব বা ব্যক্তিগত তদবিরের পরিবর্তে রোগীদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
হাসপাতালের জন্য এমআরআই মেশিন, সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং আসনসংখ্যা বাড়ানোর দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত নিশ্চিত না করে আসনসংখ্যা বাড়ানো হলে তা কার্যকর ফল দেবে না।
অনুষ্ঠানে হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সৈয়দ মোরশেদ হোসেন-এর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অসীম বড়ুয়া, পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আজাদ এবং ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান রানা।
পরে বিকেলে অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা আর থাকবে না।”
