হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: মোদি
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে “উন্মুক্ত, নিরাপদ ও অবাধ” রাখা ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্য সচল রাখতে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
শুক্রবার (১৫ মে) সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের সময় আবুধাবিতে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতিকালে এ কথা বলেন মোদি। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার পাঁচ দেশ সফরের অংশ হিসেবে তিনি এই সফর শুরু করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের অর্থনীতিতে। পরিস্থিতির কারণে শুক্রবার দেশটিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দামও বাড়ানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: মোদি……………
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ ভারত। দেশটির মোট তেল আমদানির প্রায় অর্ধেকই হরমুজ প্রণালি হয়ে আসে। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের অচলাবস্থা নয়াদিল্লির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আবুধাবিতে অবস্থানকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট Mohamed bin Zayed Al Nahyan–এর সঙ্গে বৈঠক করেন মোদি। তিনি ইউএইকে নিজের “দ্বিতীয় বাড়ি” হিসেবে উল্লেখ করে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সফরের সময় মোদির বিমান আমিরাতের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে সেটিকে সামরিক যুদ্ধবিমান দিয়ে বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া হয়। এই উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য আমিরাত প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং এটিকে ভারতের প্রতি বিশেষ সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইউএই সফর শেষে মোদি নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে রওনা হন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর জ্বালানি সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ করে চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পর এই সফরকে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির সংকট নিরসন এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে সব দেশের নৌযানের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে ভারত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলেও জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
