ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাসে মেসি, বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড আর্জেন্টাইন মহাতারকার
কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনাল জয় শুধু সেমিফাইনালে ওঠার গল্পই নয়; এটি ছিল লিওনেল মেসির কিংবদন্তি ক্যারিয়ারে যুক্ত হওয়া আরেকটি ঐতিহাসিক অধ্যায়।
ম্যাচের ১০ মিনিটে মেসির নেওয়া নিখুঁত কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। সেই অ্যাসিস্টের মধ্য দিয়েই বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
আধুনিক ফুটবল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড এখন এককভাবে মেসির দখলে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে করা অ্যাসিস্টের মাধ্যমে তাঁর মোট অ্যাসিস্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০। এতদিন এই রেকর্ডটি ছিল আর্জেন্টিনার আরেক কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার দখলে, যার অ্যাসিস্ট ছিল ৮টি।
শুধু অ্যাসিস্টের রেকর্ডেই নয়, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বেও নিজের আধিপত্য আরও সুসংহত করেছেন মেসি। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে তাঁর সরাসরি অবদান এখন ১৫টি, যা এই সময়ের মধ্যে যেকোনো ফুটবলারের চেয়ে সর্বাধিক। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে, যার অবদান ১৪টি।
১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা
- লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) — ১০
- ডিয়েগো ম্যারাডোনা (আর্জেন্টিনা) — ৮
- পিয়েরে লিটবারস্কি (জার্মানি) — ৭
- গ্রজেগর্জ লাটো (পোল্যান্ড) — ৭
রেকর্ডের তালিকায় এখানেই শেষ নয়। ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে আরও একটি অনন্য কীর্তি গড়েছেন মেসি। ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনি টানা ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে—২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬—অন্তত একটি করে অ্যাসিস্ট করার বিরল নজির স্থাপন করেছেন।
ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসেও মেসির দূরদর্শিতা, নিখুঁত পাস এবং অসাধারণ সৃজনশীলতা যে বিন্দুমাত্র কমেনি, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি তারই আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ। এখন সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে এই ঐতিহাসিক রেকর্ড এবং দুর্দান্ত ছন্দ আর্জেন্টিনা শিবিরে নিঃসন্দেহে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
