Uncategorized

শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্রের ধারণা বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী একটি প্রচলিত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল নয়; বরং নির্দিষ্ট আদর্শ ও লক্ষ্যকে সামনে রেখে পরিচালিত একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল। তাঁর দাবি, দলটির মূল লক্ষ্য শরিয়াভিত্তিক ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যা বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা ও দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্রের ধারণা বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়: মির্জা ফখরুল………..

শুক্রবার সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জেলা বিএনপির বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব আদর্শ ও কর্মসূচি থাকে। জামায়াতও তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে রাজনীতি করছে। তবে তিনি মনে করেন, শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে রাজনৈতিক দর্শন দলটি ধারণ করে, তা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

জুলাই সনদ নিয়ে বক্তব্য

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, জামায়াতে ইসলামী অভিযোগ করছে সরকার সনদ অনুযায়ী কাজ করছে না। কিন্তু সনদের প্রতিটি পাতায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, কোন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছেছে এবং কোন বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দল জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে।

তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি জুলাই সনদের বিভিন্ন শর্তও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

সংবিধান সংস্কার নিয়ে আহ্বান

সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এ বিষয়ে আলোচনার জন্য সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল জামায়াতে ইসলামীকে। তাঁর অভিযোগ, আলোচনার টেবিলে না এসে দলটি ১১টি রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, এসব কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ বা সমর্থন দেখা যাচ্ছে না। তাঁর মতে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো রাজপথের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াই অধিক কার্যকর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *