এত শক্তিশালী সামরিক ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ইরানের বিরুদ্ধে দ্রুত ও স্পষ্ট বিজয় অর্জন করতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র—এমন প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে। CNN-এর এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এই সংঘাত শুধু শক্তির লড়াই নয়; বরং এটি এখন পরিণত হয়েছে কৌশল, চাপ সৃষ্টি এবং প্রভাব বিস্তারের জটিল খেলায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করলে তেহরানও দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়। ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় আঘাত হানতে থাকে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে তারা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই যুদ্ধ সহজ নয়। Donald Trump প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—সামরিক পদক্ষেপ নিলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়বে, আর সংযম দেখালে ইরান কৌশলগত সুবিধা পেয়ে যাবে।
বাস্তবে ইরান তাদের সীমিত সম্পদ খুব হিসাব করে ব্যবহার করছে। সরাসরি যুদ্ধ জেতা না গেলেও তারা এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া—এটি তাদের সবচেয়ে বড় কৌশলগত চাল। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং অনেক দেশ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
হোয়াইট হাউসের দাবি অনুযায়ী, ইরান কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়ে নাকি কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, যুদ্ধের আগে প্রতিদিন যেখানে শতাধিক জাহাজ এই পথে চলাচল করত, সেখানে এখন মাত্র কয়েকটি জাহাজ চলাচল করছে—যা পরিস্থিতির খুব সামান্য উন্নতি নির্দেশ করে।
যুক্তরাষ্ট্র চাইলে সামরিকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে পারে। কিন্তু সেই ঝুঁকি বড়—যদি ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে কোনো জাহাজ ধ্বংস করে, তবে তা তাদের জন্য বড় প্রতীকী বিজয় হবে। একইভাবে স্থল অভিযানে গেলে মার্কিন সেনাদের হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে, যা রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চাপ তৈরি করতে পারে।
এদিকে ইরানের তেল রফতানির কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের বিষয়টিও আলোচনায় আছে। তবে এমন পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে। ইরান এতে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে এবং আলোচনার পথ আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের বড় হাতিয়ার হলেও সেটিও ঝুঁকিমুক্ত নয়। ইরানের তেল রফতানি বন্ধ করলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার আরও অস্থির হয়ে ওঠে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সরাসরি সামরিক জয় নয়, বরং কে কতটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে সেটিই মূল বিষয়। যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই বাড়ছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং রাজনৈতিক চাপ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই পক্ষেরই কিছু শক্তি ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু যদি দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তাহলে এই সংঘাত শুধু দুই দেশ নয়, পুরো বিশ্বকে বড় সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
