হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যথায় দেশটিকে “বিধ্বংসী পরিণতি” ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, এর আগে ইরানকে চুক্তি বা প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল, যা এখন প্রায় শেষ। তিনি লেখেন, আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি—এরপরই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
এই মন্তব্যটি আসে কয়েক দিন আগে দেওয়া তার আরেক বক্তব্যের পর, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অনেকাংশে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এখন অপ্রতিরোধ্য অবস্থানে রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারো প্রাণহানি ঘটেছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে—বাড়ছে তেলের দাম, ব্যাহত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অভিযানে ৩৬৫ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে। যদিও পরবর্তীতে আলোচনার অগ্রগতির কথা জানিয়ে তিনি সেই সময়সীমা কয়েক দফা বাড়ান।
বর্তমানে পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিসর মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধ এবং নৌপথ স্বাভাবিক করতে একটি সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও আলোচনায় আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এদিকে, মার্কিন রাজনীতিকদের একাংশ ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। তাদের মতে, ইরান যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের মুখোমুখি হতে পারে।
উত্তেজনার মধ্যে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা। এতে একজন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা গেলেও অন্যজন এখনও নিখোঁজ। চলমান সংঘাতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও যুদ্ধ থামার কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
