বাংলাদেশ

সারা দেশে অবৈধ রিসোর্টের ছড়াছড়ি, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় চরম ঘাটতি

দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা ছাড়াই গড়ে উঠছে অসংখ্য রিসোর্ট, কটেজ ও অবকাশকেন্দ্র। পাহাড়-টিলা কেটে, বনাঞ্চল ধ্বংস করে এবং নদী-জলাশয়ের আশপাশে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত এসব স্থাপনা একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে, অন্যদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তাকে ঠেলে দিচ্ছে চরম ঝুঁকির মুখে। আকর্ষণীয় সাজসজ্জা ও প্রচারণার আড়ালে অনেক রিসোর্টেই নেই পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, জরুরি বহির্গমন পথ কিংবা প্রশিক্ষিত জনবল।

সারা দেশে অবৈধ রিসোর্টের ছড়াছড়ি, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় চরম ঘাটতি……

কক্সবাজারে অনুমোদনহীন টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনা এ খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা নতুন করে সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পর্যটন খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটলেও সেই তুলনায় বাড়েনি তদারকি ও জবাবদিহি। ফলে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা রিসোর্টগুলো পর্যটকদের জন্য যেমন ঝুঁকি তৈরি করছে, তেমনি দেশের পর্যটনশিল্পের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধিদের অনুসন্ধানে দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় রিসোর্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে অনুমোদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থার গুরুতর ঘাটতির চিত্র উঠে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, কক্সবাজারে শত শত হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। বান্দরবানে পাঁচ শতাধিক রিসোর্ট ও কটেজের বিপরীতে জেলা প্রশাসনের অনুমোদন রয়েছে মাত্র ৭৯টির। রাঙামাটিতে প্রায় ১০০টি রিসোর্টের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের বৈধতা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। খাগড়াছড়িতে অগ্নিনিরাপত্তার অনুমোদন নবায়ন করেছে মাত্র চারটি প্রতিষ্ঠান। সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকা, গাজীপুর, সাভার ও শ্রীমঙ্গলেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, নেপাল, থাইল্যান্ড ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবেশবান্ধব এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীনির্ভর পর্যটন জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বাংলাদেশেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে এ ধরনের পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু অপরিকল্পিত স্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, অনিরাপদ বৈদ্যুতিক সংযোগ, পানির সংকট এবং অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি সেই সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

কক্সবাজারে শত শত প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন

কক্সবাজার শহর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ এলাকায় হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ ও রিসোর্টকেন্দ্রিক ব্যবসা দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। ইনানী, হিমছড়ি ও পাটুয়ারটেকসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য পর্যটন স্থাপনা। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জেলা প্রশাসন, মালিক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর হিসাবে হোটেল-মোটেল-রিসোর্টের সংখ্যা ৫০০ থেকে ৬০০টির মধ্যে হলেও অন্যান্য হিসাব অনুযায়ী, পুরো এলাকায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সাত শতাধিক। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যাচাইয়ে অনেক প্রতিষ্ঠানের বৈধতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ঘাটতি পাওয়া গেছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে নোটিস দিয়ে সতর্ক করা হলেও অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, ২০১৩ সালের মাস্টারপ্ল্যান সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে। তাঁর প্রত্যাশা, সংশোধিত পরিকল্পনা কার্যকর হলে পর্যটন এলাকার উন্নয়ন ও স্থাপনা নির্মাণে শৃঙ্খলা ফিরবে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, টুপটুপ রিসোর্টসহ দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে আগে থেকেই সতর্ক করে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের ফায়ার লাইসেন্স ছিল না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিনের ভাষ্য, মেরিন ড্রাইভ এলাকার টুপটুপ রিসোর্টসহ প্রায় ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

পার্বত্য অঞ্চলে অনুমোদনের ঘাটতি, বাড়ছে ঝুঁকি

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। পাহাড়, বন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ঘিরে গত এক দশকে এ অঞ্চলে শত শত ইকো রিসোর্ট, কটেজ ও অন্যান্য পর্যটন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোরই প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নেই।

বান্দরবান জেলা হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, জেলায় পাঁচ শতাধিক রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। এর মধ্যে জেলা প্রশাসনের অনুমোদন আছে ৭৯টির, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে ৩২টির এবং ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র আছে ৬০টি হোটেল-রিসোর্টের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনেক উদ্যোক্তা শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে নামমাত্র আবেদন করেই ব্যবসা শুরু করেছেন। পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, জেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই বছরের পর বছর এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে নোটিস দিয়ে সতর্ক করা হলেও সব ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনিক ও স্থানীয় নানা জটিলতাও অবৈধ স্থাপনা বন্ধের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

রাঙামাটিতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। পর্যটনশিল্প সমবায় সমিতির তথ্য অনুযায়ী, শহর ও আশপাশে প্রায় ৬০টি হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এর বাইরে ১০টি ইকো রিসোর্ট এবং কাপ্তাই থেকে আসামবস্তি পর্যন্ত লেকের পাড়ে আরও কয়েকটি পর্যটন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। কাপ্তাই লেকে রয়েছে প্রায় ১৫টি হাউসবোট। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৩০টি সমিতির তালিকাভুক্ত। অনুমোদনহীন বা নথিপত্রের জটিলতা থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত এ তালিকার বাইরে রয়েছে।

এ অঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ২০১৭ সালের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অন্তত পাঁচটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ফেব্রুয়ারিতে ভয়াবহ আগুনে অন্তত ৩০টি রিসোর্ট পুড়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। দ্রুত পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ায় প্রাণহানি তুলনামূলকভাবে কম হয়েছিল।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৪২টি আবাসিক হোটেল পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে মাত্র চারটি প্রতিষ্ঠান ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স নবায়ন করেছে। ফলে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সুন্দরবন ও কুয়াকাটায়ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনসংলগ্ন সাতক্ষীরার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রেও অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে। জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর বৈধ ফায়ার লাইসেন্স, জরুরি বিকল্প সিঁড়ি কিংবা আগুন মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত কর্মী নেই।

শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জে অবস্থিত সুন্দরবনঘেঁষা সুশীলন রিসোর্টের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলেও তা নবায়ন করা হয়নি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে বর্ষা রিসোর্টে প্রয়োজনীয় সেফটি প্ল্যান নেই। তালা উপজেলার ত্রিশমাইল এলাকার অগ্রগতি রিসোর্ট, উত্তরণসহ অন্যান্য অবকাশকেন্দ্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ৩০০টির বেশি হোটেল-মোটেল রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন মেনে পরিচালিত হচ্ছে না। পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান চাপের বিপরীতে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এ অঞ্চলেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

শ্রীমঙ্গলে পাহাড়-টিলা কেটে রিসোর্ট নির্মাণ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পর্যটন ব্যবসার সম্প্রসারণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পাহাড়-টিলা কাটা ও বনাঞ্চল ধ্বংসের অভিযোগ। রাধানগর, বিষামনী, ডলুছড়া, দিলবরনগর, বেগুনবাড়ী ও মহাজীরাবাদ এলাকায় গত কয়েক বছরে অর্ধশতাধিক রিসোর্ট ও কটেজ নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব এলাকায় নতুন স্থাপনা নির্মাণের কাজও চলছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রায় ১০০টি রিসোর্ট ও কটেজের মধ্যে অধিকাংশের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নকশা অনুমোদন নেই। অপরিকল্পিতভাবে পাহাড়ি এলাকায় স্থাপনা নির্মাণের ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে, প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

পরিবেশবিদদের মতে, পর্যটন উন্নয়নের নামে পাহাড় কাটা ও বনাঞ্চল ধ্বংস করা হলে দীর্ঘমেয়াদে ওই এলাকার প্রাকৃতিক আকর্ষণই নষ্ট হয়ে যাবে। পাশাপাশি যথাযথ তদারকি না থাকলে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত অনিয়ম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গাজীপুর ও সাভারে অনিয়মের অভিযোগ

ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় গাজীপুরে রিসোর্ট ব্যবসা দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৭৮টি রিসোর্ট রয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় বিভিন্ন হিসাবে এ সংখ্যা প্রায় ১০০। এর মধ্যে মানসম্মত সুযোগ-সুবিধা ও আন্তর্জাতিক মানের সেবা রয়েছে মাত্র ১০ থেকে ১৫টি প্রতিষ্ঠানে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকগুলোর বিরুদ্ধে ফায়ার লাইসেন্স, সেফটি প্ল্যান ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে। এসব স্থাপনায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও উঠেছে। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হলেও নিয়মিত তদারকির অভাবে পরিস্থিতির স্থায়ী পরিবর্তন হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সাভার, আশুলিয়া ও আশপাশের এলাকাতেও অর্ধশতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের প্রয়োজনীয় ফায়ার লাইসেন্স এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো স্থানীয় পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ অঞ্চলে ব্র্যাকের সিডিএম, ইডেন গার্ডেন রিসোর্ট, পালমাইরা রিসোর্ট, রিসোর্ট আটলান্টিস, মমতা পল্লি রিসোর্ট, বর্ণচ্ছটা রিসোর্ট, সাফায়ার হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসহ বিভিন্ন আবাসন ও অবকাশকেন্দ্র রয়েছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি ও পরিদর্শনের মাধ্যমে পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কঠোর তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি

পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনায় অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি আইন প্রয়োগে কঠোরতা আনতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পরিবেশগত ছাড়পত্র, ভবনের নকশা অনুমোদন, ফায়ার লাইসেন্স, জরুরি বহির্গমন পথ, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, নিরাপদ বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং প্রশিক্ষিত কর্মী নিশ্চিত করা জরুরি।

একই সঙ্গে পাহাড়, বন, নদী ও জলাশয় দখল করে নির্মিত স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে নিরাপত্তার ঘাটতি চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটনশিল্পের বিকাশ শুধু নতুন রিসোর্ট নির্মাণ বা পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিরাপদ আবাসন, পরিবেশ সংরক্ষণ, মানসম্মত সেবা ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে একের পর এক দুর্ঘটনা, পরিবেশের ক্ষতি এবং পর্যটকদের আস্থার সংকট দেশের সম্ভাবনাময় পর্যটন খাতকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।