Uncategorizedরাজনীতি

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে দেশে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করেছেন, শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী….

রিজভী বলেন, শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করছে পরাজিত শক্তি। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গতকাল ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তিনি আরও দাবি করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তাদের কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশে সামাজিক অস্থিরতা তৈরির নানা অপচেষ্টা চলছে। তবে দীর্ঘ ১৭ বছর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে থাকা বিএনপি সহনশীলতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। চাঁদাবাজি, মাস্তানি, জমি দখল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এসব অপরাধ দমনে সরকার শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

১৯৯৪, ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে কীভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে ফাঁসির মুখোমুখি করেছে, তা দেশবাসীর জানা। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করে বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলার যেকোনো চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, জনগণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের পছন্দের সরকার গঠন করতে চায়। তাঁর দাবি, ১২ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও তার জোট নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। চোরাইপথে কিংবা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে তিনি জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি নেতারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচন করবেন। যাঁর জনপ্রিয়তা এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তাঁকেই প্রার্থী হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

রিজভী বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। ভোটগ্রহণ ও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারিত হলে দলীয় কার্যক্রমও সে অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

মতবিনিময় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও আব্দুল মালিক চৌধুরীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।