অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হামের টিকা আমদানি হয়নি: প্রধানমন্ত্রীকৃষি খাতে ‘স্মার্ট’ মহাপরিকল্পনা, শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে জুতা, উর্দুভাষীদের পুনর্বাসনে উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় হামের টিকা বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়নি। ফলে দেশে টিকা সংকট তৈরি হয় এবং দুঃখজনকভাবে অনেক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারায়।
জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সবাই মিলে একটি স্বৈরাচারী শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করেছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, সেই সময় এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সময়েও কয়েক বছর ধরে হামের টিকা আমদানি করা হয়নি।”
তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান তিনি। ইউনিসেফের সহযোগিতায় জরুরি ভিত্তিতে টিকা আনা হয়েছে এবং প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকাদানের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, হামের পরীক্ষার কিটেরও কিছু সংকট রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক কিট দেশে পৌঁছেছে এবং কিছু কাস্টমসে আটকে আছে, যা দ্রুত ছাড় করানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কৃষিতে ‘স্মার্ট’ রূপান্তরের মহাপরিকল্পনা
টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়ালের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি খাতকে আধুনিক ও টেকসই করতে সরকার ‘স্মার্ট কৃষি’ বাস্তবায়নে একাধিক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি ১০ ধরনের সেবা পাবেন, যেমন—
ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বিমা, সেচ সুবিধা, বাজার তথ্য, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সহায়তা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, জমির পরিমাণ কমে যাওয়া ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কৃষিকে লাভজনক খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
এছাড়া কৃষি পুনর্বাসনে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, পণ্য সংরক্ষণ প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং কৃষিপণ্য রপ্তানির জন্য বিশেষ অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
গবেষণার মাধ্যমে উন্নত ও রোগ প্রতিরোধী নতুন ফসলের জাত উদ্ভাবনেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে জুতা
দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে জুতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উন্নত ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষা ও মানবিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উর্দুভাষী বাংলাদেশিদের পুনর্বাসনে পরিকল্পনা
সরকার উর্দুভাষী বাংলাদেশি নাগরিকদের স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়েও কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য প্রয়োজনীয় সমীক্ষা পরিচালনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ‘পেপ্যাল’ চালুর উদ্যোগ
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহুল প্রতীক্ষিত অনলাইন পেমেন্ট সেবা ‘পেপ্যাল’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে দেশের ফ্রিল্যান্সাররা আন্তর্জাতিক লেনদেনে আরও সুবিধা পাবেন।
আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড প্রদান এবং হাজারো তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সারসংক্ষেপে, সরকার একদিকে স্বাস্থ্য খাতের সংকট মোকাবিলায় কাজ করছে, অন্যদিকে কৃষি, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও সামাজিক পুনর্বাসনে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
