বাবার জানাজায় কেন ছিলেন না মোজতবা খামেনি? অনুপস্থিতি ঘিরে বাড়ছে জল্পনা
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রথম জানাজার নামাজ রোববার (৫ জুলাই) তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না তার ছেলে এবং দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তার অনুপস্থিতি ঘিরে দেশজুড়ে নতুন করে নানা জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানাজার নামাজে আলী খামেনির অপর তিন ছেলে—মাসউদ, মোস্তফা ও মেইসাম খামেনি উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, রেভল্যুশনারি গার্ডসের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা।
বাবার জানাজায় কেন ছিলেন না মোজতবা খামেনি? অনুপস্থিতি ঘিরে বাড়ছে জল্পনা………..
মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, যে বিমান হামলায় তার বাবা নিহত হয়েছেন, সেই হামলায় তিনিও আহত হতে পারেন। মার্চের শুরুতে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি, যা এসব জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
১৯৮৯ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত টানা তিন দশকের বেশি সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে।
এক সপ্তাহজুড়ে শোকানুষ্ঠান
প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার আনুষ্ঠানিক শেষ বিদায় কর্মসূচি গত শুক্রবার (৩ জুলাই) শুরু হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহ ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব কর্মসূচিতে এক কোটি ২০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে। সরকার এই বিদায় অনুষ্ঠানকে ‘শতাব্দীর শেষ বিদায়’ হিসেবে উল্লেখ করছে।
বর্তমানে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে আলী খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছে। সেখানে ৯৭ বছর বয়সী বিশিষ্ট শিয়া আলেম জাফর সোবহানির ইমামতিতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। তিনি পবিত্র শহর কোমের ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক।
রোববার ইরানজুড়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। একই দিন তেহরানে সোমবারের শোক শোভাযাত্রার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গ্র্যান্ড মোসাল্লা থেকে মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।
অনুপস্থিতি নিয়ে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ
পুরো শোকানুষ্ঠান কঠোর নিরাপত্তা ও সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মধ্যে অনুষ্ঠিত হলেও মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণেও তাকে জনসমক্ষে আনা হয়নি। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার আহত হওয়ার গুঞ্জনও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এসব দাবির কোনো স্বাধীন বা সরকারি নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল থাকলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও উভয় পক্ষই প্রয়োজনে আবার সামরিক অভিযান শুরুর সতর্কবার্তা দিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, শেষ বিদায় অনুষ্ঠান চলাকালে শান্তি আলোচনা এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
অ্যাক্সিওস আরও দাবি করেছে, ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে ইরানের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা একসঙ্গে উপস্থিত থাকায় যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এক হামলায় তাদের সবাইকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারত। তবে তিনি বলেন, আলোচনার সম্ভাবনা বজায় রাখার স্বার্থে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতির প্রকৃত কারণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তার অবস্থান, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে নানা জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।
